রাজধানী ঢাকার রাজপথে বের হওয়ার পর ঠিক কত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে, তা আগাম হিসাব করা প্রায় অসম্ভব। কয়েক মিনিটের পথও কখনো কখনো ঘণ্টার যাত্রায় পরিণত হয়ে ভোগান্তি বাড়ায়। তবে যানজট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন ও পূর্বপরিকল্পনা যাতায়াতের সময় এবং মানসিক চাপ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে বিশেষজ্ঞরা কিছু বাস্তবসম্মত কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছেন-
আগে থেকে রুট পরীক্ষা
অফিসে রওনা হওয়ার আগেই ডিজিটাল ম্যাপ বা সংবাদের মাধ্যমে সম্ভাব্য ট্রাফিক পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো। নিয়মিত রাস্তায় যানজট থাকলে তৎক্ষণাৎ বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
হাতে বাড়তি সময় রাখা
অনিশ্চিত যানজট সামলাতে একেবারে মেপে বের না হয়ে হাতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাড়তি সময় রেখে যাত্রা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।
হাঁটা ও সাইকেলের সমন্বয়
গন্তব্য তুলনামূলক কাছে হলে বা নির্দিষ্ট কোনো মোড়ে গাড়ি আটকে গেলে নেমে হেঁটে কিংবা সাইকেলে এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। পুরো পথ যানবাহনের ওপর নির্ভর না করে গণপরিবহন ও হাঁটার সমন্বয় সময় বাঁচায়।
সময়সূচি ও রুটিনে সামান্য পরিবর্তন
অফিসে যদি সুযোগ থাকে, তবে পিক-আওয়ার বা ব্যস্ত সময় শুরুর কিছুটা আগেই যাত্রা শুরু করা সুবিধাজনক। প্রতিষ্ঠানের নমনীয় কর্মঘণ্টা (ফ্লেক্সিবল আওয়ার) থাকলেও তা ব্যবহার করা যেতে পারে।
অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার
সপ্তাহের কোন দিন কোন রাস্তায় বা কোন নির্দিষ্ট সময়ে যানজট বেশি থাকে, তা পর্যবেক্ষণ করে নিজের জন্য একটি কার্যকর যাতায়াত সূচি তৈরি করে নেওয়া ভালো।
রাস্তার সময়কে কাজে লাগানো
গাড়িতে বা গণপরিবহনে বসে থাকার সময়টিতে দিনের কাজের তালিকা তৈরি, জরুরি মেসেজ দেখা বা প্রয়োজনীয় ফোনকল সেরে সময়কে কাজে লাগানো যায়। তবে গাড়ি চালানো অবস্থায় কোনোভাবেই ফোন বা স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়া যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের যানজট এক দিনে রাতারাতি বন্ধ হবে না। তবে একটু সচেতনতা ও সময়ের সঠিক পরিকল্পনা যাতায়াতকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত পৌঁছানোর তাড়ায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা যাবে না।
দেশবার্তা/একে