ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে ফের গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ‘সংযম ও বিচক্ষণতার’ সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল বেরহানু জুলা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো মন্তব্য করে বেরহানু জুলা বলেন, তিগ্রাই অঞ্চলের পক্ষ থেকে আসা উসকানির জবাব সেনাবাহিনী ‘বিচক্ষণতা ও সংযমের’ সঙ্গে দিচ্ছে। তবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশটির উত্তরাঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে।
সেনাপ্রধান এর জন্য ইরিত্রিয়াকে দায়ী করে অভিযোগ করেন, ইথিওপিয়াকে দুর্বল করতে দেশটি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ ও সহায়তা দিচ্ছে। ‘সেমেডো’ জোটকে তিনি দীর্ঘদিনের বৈরী জোট গঠনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, বাইরের সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর পক্ষে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়।
তবে ইথিওপিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরিত্রিয়া। দেশটির আশঙ্কা, স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়া লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার পেতে ইরিত্রিয়ায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে।
এরই মধ্যে তিগ্রাই থেকে পাশের আফার ও আমহারা অঞ্চলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জোট গঠন করে ‘ইথিওপিয়ান পিপলস’ ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামে একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জোটটির লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো।
আফার অঞ্চলে আবালা শহরের আশপাশে সর্বশেষ লড়াই হয়েছে। সেখানে বিদ্রোহীরা যাতে নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, তা ঠেকাতে সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তিগ্রাই সীমান্তবর্তী আমহারার নর্থ ওয়োলো এলাকায় বৃহস্পতিবার পাল্টা অভিযানে ২৭২ তিগ্রাই যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী। একই অভিযানে আরও ২৬০ জন আহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, এতে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে টিপিএলএফের সশস্ত্র শাখা তিগ্রাই আর্মি পাল্টা দাবি করেছে, ফেডারেল সরকারই সেখানে ‘পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। তাদের দাবি, অভিযানে পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি সাঁজোয়া যান ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইথিওপিয়ায় ২০২০ সালে শুরু হওয়া তিগ্রাই যুদ্ধ ২০২২ সালের নভেম্বরে আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে থেমেছিল। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেই শান্তি প্রক্রিয়া এবং দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর