| চলমান বার্তা: |

সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানি সেনারা বহু বছর ধরেই ‘বিভিন্ন সক্ষমতায়’ সৌদি ভূখণ্ডে অবস্থান করছে।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে পাকিস্তানের বাহিনী সেখানে ইতিমধ্যেই রয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা গত কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সক্ষমতায় সেখানে অবস্থান করছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগের খবরের পর পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এলো।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির (এমজেডিএ) মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ দেয়। চুক্তির লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার, সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, মক্কা চুক্তি কোনো ‘শূন্যতা’ থেকে তৈরি হয়নি। তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই কাঠামো গড়ে উঠেছে।
এদিকে সোমবার তিন দেশ তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে। ওই রাতে প্রকাশিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা হুমকির জবাবে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দেশটিতে মোতায়েনের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আরবের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে সৌদি আরবে পাকিস্তানের ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েনের খবর অস্বীকার করেছিল পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ২ অক্টোবর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের সীমান্ত সুরক্ষা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ওই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় ওই প্রতিবেদনকে ‘অনুমানভিত্তিক’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল, সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যপ্রণালি নিয়ে বিস্তারিত সামরিক তথ্য অত্যন্ত গোপনীয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছিল, ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসলামাবাদ।
দেশবার্তা/এমআর
