কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউকেএমটিও এর তথ্য অনুযায়ী, কাতারের মদিনাত আশ শামাল শহর থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে ট্যাংকারটিতে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে। তবে এতে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, হামলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। জাহাজটির মালিকানা বা কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাটি কাতারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে ঘটলেও এখন পর্যন্ত দোহা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিম অংশে এটি প্রথম ট্যাংকার হামলার ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলার প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি মাসেই সেখানে ট্যাংকারে নয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটি সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগর মিলিয়ে নথিভুক্ত মোট হামলার প্রায় অর্ধেক। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এ পথ ব্যবহার করত। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে হামলা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
কেপলারের হিসাবে, ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের গড় রপ্তানি দাঁড়ায় প্রতিদিন ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল, যা যুদ্ধের আগের ১২ মাসের গড় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলের চেয়েও বেশি।
দেশবার্তা/এমআর