অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১৭ দিন ধরে চুয়েটে চলা নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও একাডেমিক অচলাবস্থাও এখনও কাটেনি। উদ্ভূত সংকট নিরসনে বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্দ্ব্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীরা পুনর্নবীকৃত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির আওতায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসকেই সাময়িক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বুধবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চুয়েটে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও পাঠদান ফিরিয়ে আনার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতা উপাচার্যের নির্দেশে সোনালী ব্যাংকে স্থগিত রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল ক্যাম্পাসে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথা অনুযায়ী হিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরে ব্যাংকে পাঠানো বিল উপাচার্যের অনুমোদনের অভাবে আটকে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তারা সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে ঘেরাওয়ের আধা ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সবার বকেয়া বেতন ও বোনাস ছাড় করতে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্যকে বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশের কর্মবিরতির কারণে চুয়েটের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও দাপ্তরিক কাজ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক বৈঠক হলেও মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকায় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
প্রতিনিধি/আরএইচ