সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি পৃথক হামলায় দেশটির তিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবারের এসব হামলায় সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন নাগরিক।
শুক্রবার সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলার পর সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি বিমানবন্দরের স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁদের কারও আঘাত সামান্য, আবার কারও অবস্থা গুরুতর। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরের কিছু স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে মাটিতে অবস্থান করছিল। হামলার সময় সেটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় সংস্থাটির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁর পরিচয় সৌদিয়া কর্তৃপক্ষের পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। উড়োজাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমান সংস্থাটির কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হামলার দায় সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে সরাসরি কারও ওপর চাপানো হয়নি। তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে হামলার বিষয়ে হুথিদের দাবি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর আগে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাগুলোতে তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী এবং রিয়াদে নিহত এক সুদানি নাগরিক ছিলেন।
হামলার আশঙ্কায় বিমান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রিয়াদে হামলার পর ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া এবং জার্মানির লুফথানসা গ্রুপের কয়েকটি বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে। বিমানবন্দরে হামলার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক আকাশপথের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে আসছে। দেশটির সঙ্গে হুথিদের বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করছে, আর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবার চালু করা হয়েছে এবং উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে হামলার পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে