জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, "আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেদিন বাবুর বাড়িতে এসেছিলেন এবং বনপাড়ার এই মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন—এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাবুর বিচার হবে না। তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তবেই এই বিচার হবে।
চার্জশিটে অভিযুক্তদের—যাদের টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমে দিনের আলোয় দেখা গিয়েছিল, যাদের হাতে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল (কেউ বুকে, কেউ গলায়, কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছিল)—সেদিন সব সংবাদপত্র ও টেলিভিশন তা প্রচার করেছিল।
সেদিন আমরা ভেবেছিলাম, শেখ হাসিনা অন্তত সেই পাঁচ-সাতজন খুনিকে দল থেকে বহিষ্কার করবেন। প্রিয় ভাইয়েরা, পরদিন সংসদে শেখ হাসিনা কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, 'এটা কি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নাকি বাবু মারা গেছে?' প্রিয় ভাইয়েরা, যখন টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমে বাবুর খুনিদের পরিচয় প্রকাশ হতে লাগল, তখন শেখ হাসিনা নীরব হয়ে গেলেন।
প্রিয় ভাইয়েরা, আমি আপনাদের সাক্ষী রেখে বলেছিলাম—পুলিশের চার্জশিটে যাদের সরাসরি খুনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কতটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক কাজ করেছে। আজ দেখুন, আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনার পাপের বোঝা এতটাই ভারী হয়েছে যে তিনি তা আর সইতে পারেননি; প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পালিয়ে আজ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রিয় ভাইয়েরা, আজ আমি বলছি—আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তবে বিএনপি সরকারের আমলেই বাবুর হত্যার বিচার হবে; হাসিনার যদি আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হয়, তবে আমিও বাবুর হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাব।" শহীদ...-এর ১৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাজারে সানাউল্লাহ নূর বাবু। এই কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ; বনপাড়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সম্পাদক ও শহীদ সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী মাহুয়া নূর কচি; জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব; বিসিবি কাউন্সিলর ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন; শামসুল আলম রনি এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
দেশবার্তা/জেএ