সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া অন্য সব বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা। বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রোববার এক বার্তায় বিশ্বের সব নৌপরিবহন সংস্থা, বিমান সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও যাত্রীদের উদ্দেশে এ সতর্কবার্তা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা আমাদের বাহিনীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এগুলো আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র।’ তবে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরকে সব ধরনের হামলার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়াহিয়া সারি।
এদিকে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বাহিনীর হামলার জেরে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট গুলো বাতিল করা হচ্ছে।
এরইমধ্যে রোববারের নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছে কুয়েত এয়ারওয়েজ। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখায় রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে আসার নির্ধারিত দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের সাতটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ রুটের দুটি ফ্লাইট। শনিবার রাতে রিয়াদ বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথিদের সবশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে সৌদি জোট। আঞ্চলিক লড়াই শুরুর পর উপসাগরীয় এলাকায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। সম্প্রতি হুথি ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারি বাহিনীর লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টার্মিনাল ৩ ও ৪-এ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
সৌদি সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি দেখা গেছে।
গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে একাধিক হামলা হলো। হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিল সৌদি আরব। তবে এই ঘটনার পর সামরিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে দেশটি।
দেশবার্তা/জেএ