ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১। দুই গোলে পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। রোমার মাঠে এই নাটকীয় জয়ে আরও একবার প্রমাণ হলো, শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদকে হার মানানো কতটা কঠিন।
রোমার স্তাদিও অলিম্পিকোয় বুধবার রাতে এমনই এক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। ম্যাচের শেষ দিকে তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল। আর তাতে স্বাগতিকদের মাঠ থেকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় রোমাকে।
রোমার কোচ হোসে মরিনিয়োর সঙ্গে রিয়ালের সম্পর্কও ম্যাচটিকে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা। ২০২১-২২ মৌসুমে রোমাকে উয়েফা কনফারেন্স লিগ জিতিয়েছিলেন মরিনিয়ো। পরের মৌসুমে দলটিকে তুলেছিলেন ইউরোপা লিগের ফাইনালেও। বুধবার প্রতিপক্ষের ডাগআউটে থাকলেও সাবেক কোচকে স্মরণ করে গ্যালারিতে দেখা যায় নানা ব্যানার।
ম্যাচের ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্টেন ডে রুন। তবে পাঁচ মিনিট পরই সমতা ফেরায় রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের জিয়ানলুকা মানচিনির গায়ে লেগে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে এটি এমবাপ্পের ৭২তম গোল। এ গোলের মাধ্যমে রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন ফরাসি তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রোমা। ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর ৫৭ মিনিটে আবারও জালে বল পাঠান মালেন। প্রথমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলটি বৈধতা পায়। তাতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা।
ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেছিল স্বাগতিকরা। এরপরই শুরু হয় রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। বদলি হিসেবে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল করেন কার্লোস ইস্পি। এন্দ্রিকের হেড রোমার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান তিনি।
দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরে রিয়াল। আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এন্দ্রিক। তাতে ম্যাচের স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩।
নাটকের শেষ অঙ্কটি লেখা হয় ৯০ মিনিটে। গুলারের নেওয়া আরেকটি সেট পিস থেকে কাছের পোস্টে ভলি করে জয়সূচক গোলটি করেন অ্যান্তোনিও রুডিগার। শেষ দিকে টানা তিন গোল করে ৪-৩ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ।
দেশবার্তা/এমআর