রাঙামাটির ‘ঝুলন্ত সেতু’ এখনও ডুবন্ত, বেড়াতে এসে হতাশ পর্যটকরা

জাহেদা বেগম, রাঙামাটি

সারাদেশ

অনিন্দ্য সুন্দর পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সিম্বল ‘ঝুলন্ত সেতু’। রূপ, বৈচিত্রে ভরপুর খ্যাত পার্বত্য জেলাটিকে তৎকালীন সরকার পর্যটন শহর

2025-08-19T11:52:13+06:00
2025-08-19T11:52:13+06:00
শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
রাঙামাটির ‘ঝুলন্ত সেতু’ এখনও ডুবন্ত, বেড়াতে এসে হতাশ পর্যটকরা
জাহেদা বেগম, রাঙামাটি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৫২ এএম 
অনিন্দ্য সুন্দর পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সিম্বল ‘ঝুলন্ত সেতু’। রূপ, বৈচিত্রে ভরপুর খ্যাত পার্বত্য জেলাটিকে তৎকালীন সরকার পর্যটন শহর হিসেবে ঘোষণা করেছিল। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আশির দশকের গোড়ার দিকে পর্যটন করপোরেশন জেলা শহরের তবলছড়ি এলাকায় দু’পাহাড়ের সংযোগ ঘটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের উপর ‘ঝুলন্ত সেতু’ নির্মাণ করেছিল।

টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চলতি বছরের ৩০ জুলাই ঝুলন্ত সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের জলে ডুবে যায়। বর্তমানে সেতুটি একটানা ১৯ দিনের মতো হ্রদের পানিতে ডুবে আছে। অনেক পর্যটক এসময়ে ভুলবশত রাঙামাটিতে ভ্রমণে এসে ঝুলন্ত সেতুর এমন হাল দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সেতুটি নির্মাণের চার দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে এতটুকু আকর্ষণ কমেনি। এ সেতুটি দেখতে বছরে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে পার্বত্য এ জনপদে। সেতুটি যিনি একবার দেখেছেন, সেতুর উপর হেঁটেছেন তিনি বারবার এখানে ছুটে এসেছেন। বলা যায় সেতুর প্রেমের মায়ায় নিজেকে জড়িয়েছেন। 

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে পর্যটকরা নিজেদের স্মৃতি ধরে রাখতে নিজের, প্রিয়জন-স্বজনদের ছবি প্রিয় মুঠোফোনে ধারণ বা সেলফি তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেদের ফেইসবুক একাউন্টে ছবিগুলো পোস্ট করছে। অনেকে আবার ঝুলন্ত সেতুর ভিডিও ধারণ করে ব্লগিং কিংবা ইউটিউবে আপলোড করে পয়সা তুলছেন ঘরে।

যে সকল পর্যটক রাঙামাটিতে আসেন তারা আগেই ছুটে যান ‘ঝুলন্ত সেতু’ এক পলক, এক নজরে দেখতে। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসবেন আর ঝুলন্ত সেতু দেখা হবে না তাহলে তার ভ্রমণটা বৃথা গেলো এমন ধারণা পোষেন পর্যটকরা।

যে মায়াবী ‘ঝুলন্ত সেতু’ নিয়ে পর্যটকদের  মাঝে এতশত আলোচনা, আকর্ষণ, সেই সেতুর উন্নয়ন নিয়ে ভাবছে না খোদ পর্যটন করপোরেশন।

ভরা বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটির প্রকৃতি যখন নবরূপে ধরা দেয় ঠিক সেই সময়ে ঝুলন্ত সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের অথৈ জলে হাবুডুবু খায়। যে কারণে পর্যটকরা বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটির জল-পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ এবং স্মৃতি ধরে রাখতে পারলেও শেষ বেলায় ঝুলন্ত সেতু দেখার অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় তাদের।

ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যাওয়ার মূল কারণ হলো কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং। বেশ কয়েক দশক ধরে বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে পলিমাটি এসে কাপ্তাই হ্রদে পড়ে। যে কারণে কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে পড়েছে। এক দশক ধরে কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং নিয়ে আলোচনা করা হলেও সেই আলোচনা ফাইল বন্দি রয়েছে, ফাইলের উপর ধূলোর পলভ জমেছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে সেতুটি সংস্কার করার ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আওয়াজ উঠেছিল। তবে সেই আওয়াজও বন্ধ হয়ে গেছে। 
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝুলন্ত সেতুটি একটু উপর করে তৈরি করলে হ্রদের জলে ডুববে না। সংস্কারের বাজেটও এত লাগবে না। 

রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. মাসুদ রানা বলেন, রাজশাহী থেকে পরিবার নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি যেটা টিভিতে দেখেছি, পত্রিকায় ছবি দেখি সেই আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের জলে ডুবে আছে। সেতুটির উপর হাঁটার অনেক ইচ্ছে ছিলো পরিবারের সকলের। কিন্তু হতাশ হলাম।

এ পর্যটক আরও বলেন, এখানকার কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে সেতুটিকে পানিতে ডুবতে না পারে এমন ব্যবস্থা করলে পর্যটকরা যেমন হতাশ হবে না তেমনি পর্যটন করপোরেশনও ভাল রাজস্ব পাবে।

মাসুদ রানার স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, অনেক আনন্দ ও উৎফল্ল মন নিয়ে রাঙামাটিতে বেড়াতে আসলাম স্বামী, সন্তান নিয়ে। কিন্তু সেতুটি ডুবে থাকায় শত আশা হতাশায় নিমজ্জিত হলো।

একই জেলা থেকে বেড়াতে আসা মো. রাহুল বলেন, সেতুটি ডুবে যাওয়া দু:খের বিষয়। এসে ছবি তুলতে পারলাম না, সেতুতে উঠতে পারলাম না।  নৌকা দিয়ে ঘুরে সময়টা কাটালাম।

রাঙামাটি পর্যটন ঘাটের ম্যানেজার ফখরুল আলম বলেন, কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিং না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যায়। যে কারণে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যান।  আমাদের বোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঝুলন্ত সেতুটি সংস্কার করা গেলে পর্যটক সারা বছর এখানে আসবে।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে একটি ডিউ লেটার দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ যদি আধুনিক নতুন ‘ঝুলন্ত সেতু’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে তাহলে আমরা আধুনিক ‘ঝুলন্ত সেতু’ পাবো, পর্যটকরা নব উদ্যমে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলবে।


সর্বশেষ সংবাদ 

গভীর জলে ইলিশ, খালি হাতে তীরে ফিরছেন জেলেরা
তিন বাহিনীর একক প্রধান হলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
কাস্টিং কাউচ ও পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন শ্রেয়া ঘোষাল
ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়
নারীদের স্বাবলম্বী করতে ঢাকায় সেলিনা মনিরের ব্রাইডাল মাস্টারক্লাস

সর্বাধিক পঠিত 

বিটিভির সর্বোচ্চ গ্রেডের শিল্পীর মর্যাদা পেলেন ভোলার শুভ্রদেব মনির চৌধুরী
আদালত থেকে লাফ দিয়ে পালানো সেই আসামি গ্রেপ্তার
‘স্পর্শ করলেই গায়েব বিশেষ অঙ্গ’ গুজবে প্রাণ গেছে ৮০ জনের
ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পঞ্চগড় জেলা শাখার নতুন সভাপতি বাসেত, সম্পাদক রিপন
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]