তেঁতুলিয়া উপজেলার বিপুল সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের ভৌত ও সাংগঠনিক উন্নয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দেশের সর্বউত্তরের এই সীমান্তঘেঁষা উপজেলা—যেখানে শীতকালে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নামে। মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ডাকবাংলো থেকে ভারতের শৈল্যশহর দার্জিলিং, হিমালয় পর্বতমালা এবং সিকিম ও নেপালে অবস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘা খালি চোখে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। এই অনন্য দৃশ্য উপভোগ করতে সারা বছর পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান।
তেঁতুলিয়া উপজেলা, যা ‘হিমালয় কন্যা’ নামে পরিচিত, সেখানে ভারী কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। সমতলে চা শিল্পের প্রসার ঘটলেও চা কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এই শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। এছাড়া প্রান্তিক এই উপজেলার ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তেমন অগ্রগতি হয়নি।
তবে বিগত কয়েক বছর ধরে তেঁতুলিয়া পর্যটন সমৃদ্ধ একটি উপজেলায় পরিণত হচ্ছে, যা পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু তেঁতুলিয়ার সৌন্দর্য বর্ধন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর জিরো পয়েন্ট এলাকায় দেশের সবচেয়ে উঁচু পতাকা স্ট্যান্ড ও প্রাঙ্গণ নির্মাণ, গেইট ও স্ট্রিট লাইট নির্মাণ, তেঁতুলিয়া পুরাতন বাজারসংলগ্ন মহানন্দা নদীর তীরে শিশুপার্ক স্থাপন, যেখানে আগন্তুক পর্যটক ও শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন প্রকার চিলড্রেন রাইডস ও খেলার সামগ্রী স্থাপন করা হবে।
এছাড়া শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ উন্নয়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া সামগ্রী (ফুটবল) বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ, সরকারি নিবন্ধিত এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন মাঠে টেনিস ও ভলিবল কোর্ট স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারসহ বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে।
এছাড়া তেঁতুলিয়ায় ভিক্ষাবৃত্তি পেশা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে এবং অসহায়, বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজের প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে হুইলচেয়ার বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।
২০২৪ সালে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশকর্মী মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়ার পর্যটন শিল্প বিকাশ ও নান্দনিকতার জন্য শিশুপার্ক ও মহানন্দা পার্ক নির্মাণ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্বাধীনতার মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত তেঁতুলিয়ায় বিগত কয়েক বছরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের নেতৃত্বে এই উদ্যোগগুলো বাস্তব রূপ পাচ্ছে—এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, প্রতিটি প্রকল্প জনকল্যাণ ও জনসেবামুখী করার লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে একই নামে প্রকল্পের দ্বৈততা রোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রদত্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও জানান, এই কার্যক্রমকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দুটি নতুন ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও টেকনিক্যাল পার্সনদের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে।
ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু আরও বলেন, তেঁতুলিয়া উপজেলাকে পর্যটন, শিক্ষা ও জনকল্যাণে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্য পূরণে সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দেশবার্তা/একে