পানিতে ভরপুর, কম ক্যালোরিযুক্ত আর পেটের জন্য আরামদায়ক- গ্রীষ্মের দাবদাহে খাদ্যতালিকায় শীর্ষস্থানে থাকে লাউ ও ঝিঙে। তবে স্বাস্থ্যগুণ আর পুষ্টির বিচারে কোনটি বেশি উপযোগী, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে।
প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং সহজপাচ্য খাবার হিসেবে দুটি সবজিরই জুড়ি মেলা ভার। তবে পুষ্টি উপাদানের বিন্যাস ভেদে এদের কার্যকারিতায় রয়েছে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য।
লাউয়ের পুষ্টি উপাদান ও উপকারিতা
প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে প্রায় ১২-১৫ ক্যালোরি থাকে এবং এর ৯৫ শতাংশই পানি। এতে ৩.৩৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.২ গ্রাম ফাইবার, ০.২ গ্রাম প্রোটিন, ১০.১ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ১৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ছাড়াও ক্যালশিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স রয়েছে।
প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় লাউ শরীরকে দ্রত আর্দ্র (হাইড্রেটেড) রাখে এবং পেট ঠান্ডা করে। এটি হজমক্ষমতা বাড়ায় এবং কম ক্যালোরির কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। লাউয়ে থাকা পটাশিয়াম ও সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট ভালো রাখে।
ঝিঙের পুষ্টি উপাদান ও উপকারিতা
ঝিঙেতে পানির পরিমাণ প্রায় ৯৩-৯৫ শতাংশ হলেও এতে লাউয়ের চেয়ে ফাইবার (২.৫ গ্রাম) এবং ভিটামিন সি (১৫-২০ মিলিগ্রাম) বেশি থাকে। ১০০ গ্রাম ঝিঙেতে ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় ১৮-২০। এতে ৩.৫-৪.৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৬-১.২ গ্রাম প্রোটিন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন এ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে।
উচ্চ ফাইবারের কারণে ঝিঙে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ও হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে।
বিচারে কে এগিয়ে?
শরীরকে তাৎক্ষণিক শীতল করা, আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং পেটফাঁপা বা গরমজনিত অস্বস্তি দূর করার ক্ষেত্রে লাউ সবচেয়ে এগিয়ে।
অন্যদিকে, ফাইবারের প্রাচুর্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগানের ক্ষেত্রে ঝিঙে বেশি কার্যকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি সবজিই নিজ নিজ গুণে অনন্য এবং গরমে খাদ্যতালিকায় দুটিরই পর্যায়ক্রমিক উপস্থিতি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।
দেশবার্তা/একে