পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান ছাড়া দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়া কঠিন। সম্পর্কের মধ্য থেকে সম্মান হারিয়ে গেলে ম্লান হয়ে পড়ে ভালোবাসা ও পারস্পরিক টান। জীবনের পথচলায় মানুষ দীর্ঘমেয়াদি অবহেলা বা অসম্মান মেনে নিতে পারে না। অনেক সময় রাগের মাথায় স্বামীর অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কথা স্ত্রীর মনে গভীরভাবে ক্ষত সৃষ্টি করে, যা সম্পর্কের বাঁধন শিথিল করে দেয়। সে কারণে দাম্পত্যের সুবাতাস বজায় রাখতে কথা বলার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। মূলত এমন চারটি কথা রয়েছে, যা কখনোই স্ত্রীকে বলা উচিত নয়-
‘বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও’
সংসার জীবন শুরু করতে গিয়ে একজন নারীকে তাঁর নিজের পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে আসতে হয়। নতুন একটি জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি নিজের অভ্যাসেও অনেক পরিবর্তন আনেন। যে ঘর ও সংসার দুজন মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে, সেখানে রাগের মাথায় স্ত্রীকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ধরনের কথা তাঁর নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের বোধকে ভেঙে দেয়।
‘আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছ’
একসঙ্গে পথ চলতে গিয়ে অনেকেই সঙ্গীকে ভালো রাখতে নিজের অনেক ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দেন। কোনো কারণে ক্ষুব্ধ বা মনোক্ষুণ্ন হলে চিল্লাচিল্লি না করে কিংবা সঙ্গীর ওপর দায় না চাপিয়ে ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করা উচিত। জীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো বাক্য রাগের মাথায় বলে ফেললে পরবর্তীতে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
‘তোমাকে বিয়ে করে ভুল করেছি’
যেকোনো কথা মুখে উচ্চারণের আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন, কারণ একবার বলে ফেললে তা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। বিয়ের সিদ্ধান্তটি যৌথ হলেও সার্বিক প্রেক্ষাপটের একক দায়ভার স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে ‘তোমাকে বিয়ে করা ভুল ছিল’ বলা অনুচিত। স্বামীর মুখ থেকে এমন মন্তব্য শুনলে স্ত্রীর আত্মমর্যাদা ও বিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
‘আমার কাছে তোমার মতামতের গুরুত্ব নেই’
দাম্পত্যের অন্যতম শর্ত হলো সংসারের প্রতিটি বিষয়ে একে অপরের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারস্পরিক আলোচনা জরুরি। কিন্তু তা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্ত্রীর মতকে প্রকাশ্যে অবমূল্যায়ন করা চরম অবহেলার সামিল। এমন আচরণ সম্পর্কে দূরত্ব ও তিক্ততা বাড়ায়।
দেশবার্তা/একে