ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে সোমবার ঘোষণা দিতে পারেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা। জাপান সরকারের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফায় ইয়েন কেনার পরই এ ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৬ সালের পর ডলারের বিপরীতে ইয়েন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর ২০১১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করছে।
একটি বাজার সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের লেনদেন চলাকালে জাপান সরকার ডলারের বিপরীতে ইয়েন কিনেছে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্দেশ্যে প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখলেও শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় ইয়েনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে।
ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদার সংবাদ সম্মেলনের পর ইয়েনের মান হঠাৎ বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সে সময়ও টোকিও ইয়েন কিনে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে।
শুক্রবার ইয়েনের আকস্মিক উত্থানের পর জাপানের শীর্ষ মুদ্রা কূটনীতিক আৎসুশি মিমুরা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক অব জাপান আর্থিক নীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কয়েকটি ব্যাংককে সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট ইয়েনকে "অত্যন্ত অবমূল্যায়িত" বলে মন্তব্য করেছিলেন। শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর হাতে থাকা একটি নোটপ্যাডে "করণীয়" শিরোনামের নিচে ‘৫–১০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন কিনুন’ লেখা ছিল বলে রয়টার্সের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়।
দ্বিপক্ষীয় সমন্বয়ের অংশ হিসেবে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইংরেজিতে এক বিরল পোস্টে জানায়, বাজারে ডলারের তারল্য নিশ্চিত করতে তাদের কাছে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের রিপার্চেজ ফ্যাসিলিটি ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাপান মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি না করেই ডলারের তারল্য বাড়াতে পারবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারে চাপ কমবে এবং মার্কিন বন্ডের ইল্ড হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
এদিকে জাপানের অর্থমন্ত্রী মিনোরু কিউচি রোববার বলেন, সরকারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকার বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করবে। তিনি বলেন, জাপানের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বাজারের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবার্তা/এমআর