যুদ্ধে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতিসংঘে উত্তপ্ত বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার কঠোর অবস্থানের কথা জানান। বক্তব্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তাকে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটি দেশ গড়ে তুলতে দেবে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুতই করব, যাতে তারা আর কখনও মানুষ ও দেশগুলোকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়?’
অন্যদিকে, জাতিসংঘে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ‘প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে ‘আরও ভয়াবহ, ধ্বংসাত্মক এবং অনির্দেশ্য আঘাত হানার পূর্ণ প্রস্তুতি’ তাদের রয়েছে।
বাঘযুদ্ধের বাইরে প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোও সংকটে জড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যস্থতাকারীরা সারা দিন দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন।
এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক’ আখ্যা দিয়ে উইটকফ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মধ্যস্থতাকারীদের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তা পুনরায় চালুর তাগিদ দিচ্ছেন এসব দেশের নেতারা। তবে ভূরাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যাতে অতিরিক্ত কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক। সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মনে করি, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি (৩ নভেম্বরের) মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হতে পারে, হয়তো তার আগেও। আমি জানি না। কখন কী হয়, তা তো বলা যায় না।’
দেশবার্তা/একে