ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে আবারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভারতের রঞ্জি ট্রফিতে খেলা ২৯ বছর বয়সী অলরাউন্ডার রাচিত ভাটিয়া দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) পাঁচটি ম্যাচ তিনি ফিক্সিং করেছেন। লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে দলের ভেতরের তথ্য সরবরাহ করে প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ রুপি করে মোট ৩ কোটি রুপি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
ভারতীয় অনুসন্ধানমূলক সংবাদ সংস্থা ‘তেহেলকা’র এক গোপন ক্যামেরার অনুসন্ধানে রাচিত বলেন, ‘২০২৫ সালের আইপিএলে আমি পাঁচটি ম্যাচ ফিক্সিং করেছি। চেন্নাই সুপার কিংসের ভেতরের তথ্য স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে পাঠিয়েছি। প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ রুপি পেয়েছি। পাঁচ ম্যাচে মোট ৩ কোটি রুপি পেয়েছি।’
শুধু আইপিএল নয়, এর আগেও ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা প্রকাশ করেন এই ক্রিকেটার। ২০১৮-১৯ মৌসুমে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে রাচিত বলেন, ‘আমি স্পট ফিক্সিংও করেছি। ইচ্ছা করে দুটি ওয়াইড বল করেছিলাম। প্রতিটি ওয়াইডের জন্য জুয়াড়িদের কাছ থেকে ৮ লাখ রুপি করে পেয়েছি।’
এছাড়া নাগাল্যান্ড রাজ্য দলের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলার সুযোগ পেতেও অর্থ লেনদেনের দাবি করেছেন তিনি। রাচিতের ভাষ্য, ‘নাগাল্যান্ডের রঞ্জি ট্রফি দলে জায়গা পেতে আমি ১৫ লাখ রুপি ঘুষ দিয়েছিলাম। ২০১৮-১৯ মৌসুমেই রঞ্জিতে আমার অভিষেক হয়।’
এমনকি ২০২৬ সালের আইপিএল ও দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) ফিক্সিংয়ের সম্ভাব্য দরদাম নিয়ে কথা বলেন রাচিত। তিনি বলেন, ‘আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ম্যাচপ্রতি ১ কোটি রুপি এবং টসের আগে একাদশের তথ্য দেওয়ার জন্য ৬০ লাখ রুপি পাওয়া যায়। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিং ও একাদশের তথ্য দেওয়ার জন্য ম্যাচপ্রতি ৪০ লাখ রুপি পাওয়া যায়।’
তবে ২০২৬ আইপিএলে তার এই পরিকল্পনা সফল হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে খেলোয়াড়ের মাধ্যমে আমি তথ্য পাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, চোটের কারণে সে চেন্নাই সুপার কিংসের একাদশে সুযোগই পায়নি।’
তবে গোপন ক্যামেরায় করা রাচিতের এসব দাবির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টিতে দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ) জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ডিডিসিএ সচিব অশোক শর্মা বলেন, ‘আমরা বিসিসিআইকে (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) চিঠি দিয়েছি। বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আমাদের কাছে কোনো ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হলে দিব। আপাতত বোর্ড অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছে। এই বিষয় দিল্লি পুলিশ বা অপরাধদমন শাখাকেও দেখতে হবে।’
দেশবার্তা/একে