আগের সপ্তাহেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্রুততম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানও বেশ উজ্জ্বল। তবে জাপানের বিরুদ্ধে ভারতের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চসংখ্যক ‘শূন্য’ রানে আউট হওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছেন এই ২৬ বছর বয়সী ব্যাটার।
জাপানের বিপক্ষে ৫ ওভারের সংক্ষিপ্ত ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই চারলি হারা-হিঞ্জের বলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ দেন অভিষেক। এর মাধ্যমে ২০২৬ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শূন্য রানে (ডাক) আউট হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড এখন শুধুই তার দখলে।
এর আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ৯ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার যৌথ রেকর্ড ছিল তিনজনের। রশিদ খান (২০১৯) ও শাদাব খানের (২০২৪) সঙ্গে এতদিন এই তালিকায় নাম ছিল অভিষেকেরও। তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মেরে আগের সবাইকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির হিসাব ধরলে অবশ্য আরও তিন ক্রিকেটারকে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন অভিষেক। ২০২৬ সালে নিজের ৭ম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি 'ডাক'-এর মাধ্যমে তিনি স্পর্শ করেছেন রুয়ান্ডার জ্যাপি বিমেনিমানা (২০২৩), অর্চিডে টুইসেঙ্গে (২০২৩) এবং পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবের (২০২৫) এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৭টি করে ডাক পাওয়ার রেকর্ড।
এদিকে, জাপান ও ভারতের মধ্যকার এই ম্যাচটিতে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। জাপানের সানোতে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩২ রান তোলে ভারত। জবাবে দারুণ লড়াই চালিয়ে ৩ উইকেটে ৩০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় জাপান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানের জয়ে রক্ষা পায় ভারত।
এই ম্যাচে ভারতের প্রথম তিন টপ অর্ডার ব্যাটার যৌথভাবে করেন মাত্র ১২ রান। সহযোগী কোনো দেশের বিরুদ্ধে খেলা ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির মধ্যে এটি ভারতের টপ অর্ডারের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
এর আগে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২১ রান ছিল তাদের আগের সর্বনিম্ন। এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নামার আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের জন্য জাপানের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে