নামেই সোনারগাঁও পৌরসভা, দুর্ভোগের শেষ নেই

এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া, জনবল সংকট, অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা ও নাগরিক সেবার ঘাটতিতে চরম

2026-08-04T18:10:35+00:00
2026-08-04T18:10:35+00:00
বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English

বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
নামেই সোনারগাঁও পৌরসভা, দুর্ভোগের শেষ নেই
এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১০ পিএম 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া, জনবল সংকট, অবকাঠামোর বেহাল অবস্থা ও নাগরিক সেবার ঘাটতিতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বাসিন্দারা। ২০২২ সালের মে মাস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবার উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল আমিনপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে উন্নত নাগরিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সোনারগাঁও পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর এটি ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রায় ৯ দশমিক ৫১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ৮ হাজার ৫০টি হোল্ডিং, ২৭ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার এবং জন্মনিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী ৪৯ হাজার ১৬৬ জন নাগরিক রয়েছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়র সাদেকুর রহমান ও ৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়। তবে সীমানা-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওই বছরের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৫ মাস পর ২০২২ সালের ১৬ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পৌর পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। দীর্ঘদিনেও আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও নাগরিক সুবিধা বাড়েনি। বরং প্রতি বছর করের চাপ বাড়লেও সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি ও বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সেবায় ঘাটতি রয়ে গেছে।

পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯৪টি স্থায়ী পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শূন্য রয়েছে ৭৮টি পদ। একজন সহকারী প্রকৌশলী ও দুজন উপসহকারী প্রকৌশলী থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম ও সহকারী প্রকৌশলী তানভীর আহামেদের বিরুদ্ধে পৌর ভবনের দ্বিতীয় তলার অফিস কক্ষকে আবাসিক কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া ২০১৪ সালে একজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করলেও গত ১২ বছরে তাঁকে সেবা দিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক বাসিন্দা।

পৌরসভা সূত্রে আরও জানা যায়, পৌর এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বৈদ্যুতিক ও ১৫৮টি সোলার স্ট্রিট লাইট রয়েছে। পাকা সড়ক ৬২ কিলোমিটার, কাঁচা সড়ক ১২ কিলোমিটার, ড্রেন ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ৯টি সেতু ও কালভার্ট, ৮টি কবরস্থান এবং একটি শ্মশান রয়েছে। তবে ৫০টি ডাস্টবিন কাগজে-কলমে থাকলেও ডাম্পিং স্টেশন নেই। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ ডাস্টবিন নষ্ট বা হারিয়ে গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন মাত্র ছয়জন। মশা নিধনের জন্য দুটি ফগার মেশিন থাকলেও জনবল সংকট রয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পৌরসভার দুটি গার্বেজ ট্রাক, পাঁচটি এক্সকাভেটর, তিনটি পেলোডারের মধ্যে একটি, একটি ডোজার, তিনটি ডাম্প ট্রাকের মধ্যে দুটি, একটি পিকআপ, দুটি রোড রোলার, একটি ছোট পেলোডার এবং সেফটি ট্যাংক পরিষ্কারের ভ্যাকুয়াম ট্রাক অচল হয়ে রয়েছে। গার্বেজ ভ্যানের আটটির মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি। বিভিন্ন যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগও রয়েছে। অচল যানবাহন থাকা সত্ত্বেও তিনজন চালক নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক খানাখন্দে ভরা এবং চলাচলের অনুপযোগী। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান ও পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকছে।

দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বৈদ্যুতিক ও সোলার স্ট্রিট লাইট অকেজো হয়ে আছে। ফলে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়। পাঁচ বছরেও পানি শোধনাগার নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও অপর্যাপ্ত।

১ নম্বর ওয়ার্ডের দরপত এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী রানা বলেন, খানাখন্দে ভরে গেছে সড়ক, বৃষ্টি হলেই চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। পৌরসভার মধ্যে আমরাই সবচেয়ে নাগরিক সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত। সড়কে কয়েকটি লাইট থাকলেও রয়েছে নষ্ট, সন্ধ্যা হলেই ভয়ে সড়ক দিয়ে কেউ চলাচল করতে চায়না।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন টিপরদী এলাকার বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ রুবেল বলেন, বছরের পর বছর টেক্স বাড়লেও বাড়েনি কোন নাগরিক সুযোগ সুবিধা। ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় ময়লা আবর্জনায় খালও দিনদিন বরাট হয়ে যাচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের জন্যও নেই ড্রেনব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান আশা করছি।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারগাব এলাকার বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন লিটু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌর মেয়র না থাকার কারনে আমরা নাগরিক সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এলাকার রাস্তা-ঘাট গুলোর বেহাল অবস্থা, রাস্তার লাইট গুলো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে দেখার মত যেন কেউ নেই। আমরা যেন অভিভাবকহীন একটা পৌরসভায় বসবাস করছি।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম বলেন, পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট, উন্নয়ন ও সোলার লাইট গুলো দেখবাল করার দায়দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের। এই পৌরসভা একটি অনুন্নত পৌরসভা এখানে পর্যাপ্ত অর্থের যোগান নেই, টেক্সের হারও অসন্তোষজনক। বর্তমানে সরকারী অনুদানও খুবই কম, গতানুগতিক যে বরাদ্দ তা দিয়ে কোন রকমে চলছে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আসিফ আল জিনাত বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন একটা চলমান প্রক্রিয়া, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই খানাখন্দে ভরা সড়ক, লাইটিং ও বজ্র ব্যবস্থাপনার সমস্যা গুলো চিহ্নিত করেছি, খুব শীঘ্রই এগুলোর সমাধান হবে বলে আসা করছি। 

অচল যানবাহন সম্পর্কে তিনি বলেন, কোন গাড়ি যদি একে বারেই অকেজো হয়ে যায় তাহলে সরকারি নীতিমালার আলোকে যেটা করণীয় সেই ব্যবস্থাই করবো।

সহকারী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পৌর ভবনে অবস্থান করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও বলেন, পৌর ভবনে থাকার নিয়ম নেই, কিভাবে থাকেন জানি না। তবে বিষয়টি আমি দেখবো।

প্রতিনিধি/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

‘গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে অজুহাতের মাধ্যমে দায় এড়াতে চাই না’
পরিকল্পিত নগর গঠনে মউকের মতবিনিময় সভা
দণ্ডিত আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান
কৃষি গবেষণায় ৫০ বছর পূর্ণ করল বারি
হাসিনার ভাষণ নিয়ে ভারতের সাফ জবাব, দায় আমাদের নয়

সর্বাধিক পঠিত 

বরগুনায় সামারি ট্রায়ালে ছয়জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্ডোতে বাংলাদেশের বড় সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী বাজেটে দেশীয় সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন
যদি সত্যিই ভালোবাসতে
ক্র্যাব সদস্যদের অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিল ফায়ার সার্ভিস
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
আহমেদ টাওয়ার ( লেবেল ১২),২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ
বনানী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। শামীম প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৪/৫ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত।
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]