বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আয়োজিত কোনো ভার্চ্যুয়াল কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিতে ভারত সরকারের কোনো ধরনের ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নানামুখী প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল ভাষণের পরিকল্পনা প্রকাশ পেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও বিষয়টি আলোচিত হয়।
বিতর্কের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, আপনি যে মতবিনিময় সভার বিষয়টি উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি এই ফোরামে যে মতামতই ব্যক্ত করা হোক না কেন, ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ সরকার পরিবর্তনের পর ভারতের অবস্থান ও সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের বিষয়ে মুখপাত্র জানান, পরবর্তী ব্রিকস (বিআরআইসিএস) শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে বলতে গেলে, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে পৃথকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিকস জোটের ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে আঞ্চলিক বিভিন্ন জোটের প্রধানদের যেভাবে অতিথি হিসেবে ডাক দেওয়া হয়, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকেও একই নিয়মে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা আমন্ত্রণপত্রটি পেয়েছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত দেবেন।
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালে বিমসটেক প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্ণ হবে এবং ঢাকায় জোটের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনের 'আউটরিচ সেশন'-এ এই অংশগ্রহণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
দেশবার্তা/একে