মরক্কো সংলগ্ন স্প্যানিশ ছিটমহল ‘সেউতা’য় অভিবাসী অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। উদ্ভূত এই অভিবাসন সংকট ও সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে আগামী মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে ইইউ।
রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে সম্প্রতি প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের সেউতায় ঢুকে পড়ে। নজিরবিহীন এই সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্প্যানিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ৩০ জুলাই সেউতায় প্রবেশ করা ব্যক্তিদের প্রায় সকলকেই ইতিমধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অভিবাসন ঢলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইইউ’র অভ্যন্তরীণ অবাধ যাতায়াত নীতিতেও। ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সমর্থন নিয়ে ইতালি ইতোমধ্যে স্পেনের সাথে ‘শেনজেন চুক্তি’ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই পদক্ষেপকে ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও বেআইনি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্পেন। এছাড়া ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড ও পর্তুগালও তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি ও তল্লাশি জোরদারের কথা ভাবছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত আরও শক্তিশালী করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে ইইউ নেতৃত্বের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন জোটের ২২টি দেশের নেতারা। এতে স্বাক্ষর করেছেন নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও বেলজিয়ামসহ শীর্ষ নেতারা।
চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলেন, ‘ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশ করা সম্ভব- এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের বড় মিশ্র হুমকি। এটি আরও বেশি মানুষকে অবৈধ অনুপ্রবেশে উৎসাহিত করবে এবং ইইউ’র যৌথ অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করবে, যার খেসারত দিতে হবে সব সদস্য রাষ্ট্রকেই।’
বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউ কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় চিঠিটি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টকে লেখা পৃথক এক চিঠিতে বেশ কয়েকটি সদস্য দেশের ভূমিকায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, স্প্যানিশ সরকার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইউরোপের দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ সফলভাবে ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেউতার সীমান্ত পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। সীমান্ত অতিক্রমকারীদের প্রায় সবাই চলে গেছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আগের রূপ ফিরে পেয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে অবৈধ যাতায়াত রুখতে সেখানে নতুন প্রতিবন্ধক (ব্যারিকেড) নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
দেশবার্তা/একে