সৌদি আরবের আটটি তেলের ট্যাঙ্কার পার হতে দেয়নি বলে গতকাল শনিবার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। জানা যায়, তাদের অবরোধের কারণে ওই জাহাজগুলো গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য হয় এবং পরে ‘কেপ অব গুড হোপ’ দিয়ে পার হয়। তবে কবে বা কখন এটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি আরবের যানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবেই ওই জাহাজগুলোকে সরতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরব ও ১৩টি দেশের পক্ষ থেকে একটি বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোট গড়ে তোলা হয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর দিয়ে চলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এমন একটি সময় এই ঘোষণা এসেছে, যখন লোহিত সাগরে ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বাণিজ্যিক যান চলাচল। গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধ দেয় হুতিরা। এর পর থেকেই তারা সৌদি-সংশ্লিষ্ট নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছে। রিয়াদ এরই মধ্যে নৌ চলাচলের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক চলাফেরার হুমকি নিরসনের দৃঢ়সংকল্প ব্যক্ত করেছে।
এর আগে খবর এসেছিল, ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। এ অভিযান সাগর ও স্থলপথে চালানো হতে পারে। মূলত লোহিত সাগরে হুতিরা যে চাপ তৈরি করেছে, তা নিরসনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটি। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি করে থাকে সৌদি আরব। বর্তমান বাস্তবতায় তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অভিযানের প্রস্তুতির জন্য সৌদি বাহিনীকে পূর্ব ইয়েমেন থেকে সরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানায় ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
জাহাজ থেকে অর্থ নেবে না হুতিরা
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর দিয়ে পার হওয়া জাহাজ থেকে কোনো অর্থ নেবে না বলে জানিয়েছে। তারা জানায়, তাদের এ রকম কোনো পরিকল্পনা নেই। গতকাল শনিবার হুতি পরিচালিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশন্স কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
আলজাজিরার খবর বলছে, এইচওসিসি বর্তমানে বাব আল-মান্দেব দিয়ে নৌযান চলাচল তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তাদের ‘নিরাপদে স্থানান্তর সেবার’ জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না। কেউ যদি যাতায়াতের জন্য অর্থ দাবি করে, তাহলে তারা ইয়েমেন বা এইচওসিসির অংশ নয়। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো অর্থ না দেওয়ার বা অননুমোদিত পক্ষের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান না করার অনুরোধও জানিয়েছে তারা।
এর আগে গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের কাছ থেকে শুল্ক নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্ররা আরও জানায়, জুলাইয়ের শুরুর দিকে তেহরান সফর করেছিলেন হুতি কর্মকর্তারা। সে সময় তারা বিষয়টি নিয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সুয়েজপথে ঝুঁকি, তেল নিয়ে শঙ্কা
এদিকে মিসরের জলপথে ড্রোন হামলায় দুই গ্যাস ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জ্বালানি সুরক্ষা নিয়ে। বিশেষ করে সুয়েজ খাল ও সংলগ্ন পাইপলাইন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য ওই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ইরান ও হুতিরা সৌদি আরবের তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর সময়টিতেও মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন দিয়ে নিরাপদে তেল রপ্তানি করতে পেরেছে দেশটি। গত বুধবারের ওই হামলার দায় কেউ নেয়নি। তবে বিষয়টি বাজারে জোরালো প্রভাব ফেলেছে।
দেশবার্তা/এমআর