ইউক্রেনের কিয়েভে গতকাল শনিবার রাশিয়ার চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সতর্কবার্তায় জানান, তাদের দেশের হাতে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো ইন্টারসেপ্টর নেই।
জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুসারে, রাশিয়া ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ৩৫টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এর মধ্যে ২৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এ ছাড়া ১৮৫টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে হামলায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলছেন, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো ইন্টারসেপ্টর না থাকায় শুধু একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পেরেছেন তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, রাতে শহরজুড়ে কয়েক ডজন বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের প্রতিটি প্যাকেজ আমাদের জনসাধারণের জীবন বাঁচাচ্ছে। আর প্রতিটি রাতে এর অভাবে আরও হতাহত বাড়ছে।’
ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে রয়েছে। ফ্রন্টলাইনে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে লড়াই। তবে রাশিয়ার অগ্রগতি আগের চেয়ে ধীরগতিতে চলছে। চলতি বছর রাশিয়ার ভেতরে হামলার মাত্রাও বাড়িয়েছে ইউক্রেন। দেশটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে, আঘাত হানা হয়েছে রসদের স্থাপনা ও অস্ত্র উৎপাদন কারখানাতেও। একই সময় রাশিয়া কিয়েভ ও অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। মস্কো ও কিয়েভ দুই পক্ষই যুদ্ধে বেসামরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
কিয়েভে গতকাল শনিবারের হামলাটি চলতি সপ্তাহে হওয়া দ্বিতীয় বড় মাপের হামলা। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে ৯ জন মারা যান, তাদের মধ্যে ৬ জন একই পরিবারের সদস্য। কিয়েভের মোট সাতটি স্থান থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। শহরটিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস করে। জেলেনস্কি জানান, কিয়েভজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং ১৮টি আবাসিক ভবন, একটি স্কুল ও লিথুয়ানিয়ার এক দূতাবাসে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর