দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ‘নাজকা লাইনস’ পরিদর্শনের সময় একটি যাত্রীবাহী ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ১৩ জনের মধ্যে কেউই জীবিত নেই।
রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে নিশ্চিত করে জানান, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বিমানে থাকা ১১ জন যাত্রী এবং ২ জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণ হারানোদের বড় অংশই ছিলেন পর্যটক, যারা ওপর থেকে ঐতিহাসিক নাজকা লাইনসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি দেশটির ইকা বিভাগের ‘পিসকো’ এলাকা থেকে উড্ডয়ন করেছিল। দুর্ঘটনার পরই বিমানটিতে দ্রুত আগুন ধরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে এবং আন্দিজ পর্বতমালার কাছাকাছি অবস্থিত এই ‘নাজকা লাইনস’। ঐতিহাসিকের অনুমান, এটি খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে মাটিতে খোদাই করে তৈরি করা বিশাল ভূ-চিত্রের এক প্রত্নতাত্ত্বিক সংকলন। বিশ্ব ঐতিহ্যে অনন্য অবদানের জন্য ইউনেস্কো এটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইউনেস্কোর মতে, পরিধি, প্রকৃতি, আকার ও ধারাবাহিকতার বিচারে এটি প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম প্রধান রহস্য।
বালুময় মাটিতে আঁকা বানর, হামিংবার্ড ও বিড়ালের আকৃতির বিশাল চিত্র এবং দীর্ঘ জ্যামিতিক নকশাগুলো কেবল আকাশপথ থেকেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। তাই পর্যটকরা উড়োজাহাজে চড়েই আকাশ থেকে এটি ঘুরে দেখতে পছন্দ করেন।
লাতিন আমেরিকার পর্যটননির্ভর দেশ পেরুতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী মাচু পিচুর ইনকা ধ্বংসাবশেষ কিংবা কুস্কোর পাথুরে প্রাচীন দেয়াল দেখতে আসেন।
পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার এই দেশটিতে ৪১ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছিল।
দেশবার্তা/একে