দুবাইয়ের আদালতে জামিন পাওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর এই প্রক্রিয়া সামলাতে ইতোমধ্যেই দুবাইয়ে একটি ল’ফার্ম (আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান) নিয়োগ করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কঠোর কিছু শর্ত দিয়ে দুবাইয়ের আদালত বেনজীর আহমেদকে জামিন দিয়েছেন- এমন সংবাদ আমরা পেয়েছি। সেই জামিন আদেশ বাতিল করানোর লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দুবাইয়ে ল’ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের মামলার সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা প্রকাশ করছি খুব দ্রুতই তাঁর জামিন বাতিল করিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।
এর আগে রোববার দুপুর পর্যন্ত সাবেক এই পুলিশ প্রধানের জামিনে মুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক বার্তা বা দালিলিক তথ্য পৌঁছায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য আসেনি। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরগুলো বিস্তারিত জানাতে পারবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে আইনি নিয়মকানুন সম্পন্ন করে ৩০ জুলাই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে মুক্তি পেলেও আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামিনের প্রধান শর্ত হিসেবে বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে জমা রাখা হয়েছে। আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ত্যাগ করতে পারবেন না। ফলে জামিন মিললেও আপাতত দুবাই ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই তাঁর।
দেশবার্তা/একে