দেশের বাজারে হু-হু করে বাড়তে থাকা কাঁচামরিচের মূল্য নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সোমবার (৩ আগস্ট) থেকেই কাঁচামরিচ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এর সুবাদে আগামী ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পণ্যটির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বর্তমান দর ও সরবরাহ তদারকি করতে রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান কৃষিমন্ত্রী।
বাজার পর্যবেক্ষণের এই সময়ে কৃষিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তারা যৌথভাবে বাজারে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলেন এবং চাল, ডাল, সবজিসহ নিত্যপণ্যের মজুদ ও দরদামের বিস্তারিত খোঁজ নেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কৃষিমন্ত্রী জানান, কাঁচামরিচের আকাশছোঁয়া দর রুখতে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, ‘কাঁচামরিচ আমদানিতে যে শুল্ক বা কর ছিল তা কমানো হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় আমদানির অনুমোদন (আইপি) প্রদান করা হয়েছে। আগামীকাল থেকেই পণ্যটি দেশে আনা শুরু হবে। আশা করছি, এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়বে এবং আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচ সহনীয় দামে কেনা যাবে।’
পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ভোক্তাদের কেনাকাটায় স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বাজারে সরেজমিনে যা দেখছেন, কোনো রকম অতিরঞ্জন ছাড়া সেটিই বস্তুনিষ্ঠভাবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরুন। সঠিক তথ্য প্রচার হলে সাধারণ মানুষ যেমন সচেতন থাকবে, তেমনি কোনো অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম অভাব তৈরি বা দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে না।’
উল্লেখ্য, শান্তিনগর বাজার পরিদর্শনের ঠিক আগেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য ও কৃষি পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষেই তারা সরাসরি বাজারে তদারকিতে যান।
সরকারের এমন দ্রুত শুল্ক হ্রাস ও আমদানির সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে খুব শিগগিরই সরবরাহের ঘাটতি মিটবে এবং সাধারণ ক্রেতারা কেনাকাটায় বড় স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
দেশবার্তা/একে