রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এর মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মোট আটটি মামলার সব কটিতেই জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন।
আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে তাঁকে একে একে মোট আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে সাতটি মামলায় বিভিন্ন সময় আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
চলতি বছরের গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ‘খোয়াইব হত্যা মামলায়’ হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিতের আবেদন করলেও গত ২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। তবে ওই জামিনের পরপরই তাঁকে বনানী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছিল। সোমবার শেষ মামলাটিতেও হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান খোয়াইব নামের এক যুবক। ওই ঘটনায় ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ। পরে ওই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককেও আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।