সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁ জেলার ১৩ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিহতদের স্বজনরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানার মুসা সানাইয়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি, স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতদের স্বজন ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালিত একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
ওই কারখানার একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চুল কাটার জন্য সেলুনে যান তিনি। ফিরে এসে দেখেন, কারখানায় আগুন জ্বলছে।
তিনি আরও জানান, এ কারখানায় ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে এবং বাকি আটজন কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।
কারখানার জীবিত কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্তে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। মৃতদেহ দাফন ও পরিবারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নওগাঁর নিহত ১৩ প্রবাসী হলেন, আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের মো. সাইদুর রহমানের ছেলে মো. রুবেল প্রামানিক, মৃত বজলুর প্রামানিকের ছেলে কলিমউদ্দীন, গুফফার প্রামানিকের ছেলে মো. মোহন ও মো. সুমন এবং খরস্রোতা গ্রামের মনজুরের ছেলে মজিদুল।
এ ছাড়া উজানপই গ্রামের ফরিদ শেখ, ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল, সাদনগর গ্রামের সাগর, মধ্য বোয়ালিয়া এলাকার আক্কাস প্রামানিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক, দুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে সোহেন রানা এবং সদর উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মজনুর ছেলে শাহিন।
আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ১২ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। এ ছাড়া মৃতদেহগুলো দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে মৃত্যুর খবরে উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ