দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হেফাজত আমিরের সঙ্গে বৈঠকসহ নানা কারণে তাঁর এই সফর ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ ছিল। দলের ভেতরেও গুরুত্ব পায় সফরের শেষভাগে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভা।
সভায় তিনি দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন। তবে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার তিন সাংগঠনিক কমিটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা না আসায় অনেকের মধ্যে হতাশাও দেখা দিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দিনভর কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক কর্মসূচি শেষে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির প্রায় ৬০০ নেতাকর্মী নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। এ বৈঠকে পদ-পদবিবিহীন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। এতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
তবে অনেকে ডেলিগেট আমন্ত্রণ কার্ড না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকা, জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া বার্তা দেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নিয়ে দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। সাতটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত এই সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকাকে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাঁদের মতে, জেলা পর্যায়ে কার্যকর কমিটি না থাকায় উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে এ কমিটি নিয়ে তারেক রহমান কিছু বলেননি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন মনে করেন, দ্রুত উত্তর জেলা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়া ভিন্ন। উত্তরের প্রধান চাওয়া জেলা কমিটি। দক্ষিণের নেতারা উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা চান। আর মহানগরের নেতাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলকে প্রস্তুত করা।
তবে দলীয় প্রধান তারেক রহমান তিন সাংগঠনিক কমিটি নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেননি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের ভেতরে সব ধরনের মতপার্থক্য ও কোন্দল দূর করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। তৃণমূলকে শক্তিশালী করে শুধু কেন্দ্র নয়, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া এবং তাঁদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।
সবশেষে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের একক প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে যান তারেক রহমান।
প্রতিনিধি/আরএইচ