মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এ ফলাফলে দেখা যায়, চলতি বছরে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর সিলেট বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮৯ হাজার ৯৮৬ জন। যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিল ৩৫ হাজার ৪৩৮ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৬৪১ জন।
ছাত্রদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ, যেখানে পাস করেছে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ, পাস করেছে ৩২ হাজার ৬৮ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন, যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৯১ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ বিভাগে পাস করেছে ২০ হাজার ১৫৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ, পাস করেছে ৩ হাজার ৯৮৩ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন। মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ; এ বিভাগে পাস করেছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, সিলেট জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৩টি। মৌলভীবাজার জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন। হবিগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় পাসের হার সবচেয়ে কম ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৩ জন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯টি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানেই শূন্য পাসের ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তির বিষয়। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৯ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রেকর্ড ঘেটে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে সিলেট বোর্ডে এসএসসির পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ১৬ ভাগ, ২০১৫ সালে ৭৪ দশমিক ৫৭ ভাগ, ২০১৬ সালে ৬৮ দশমিক ৫৯ ভাগ, ২০১৭ সালে ৭২ দশমিক শূন্য শূন্য ভাগ, ২০১৮ সালে ৭৩ দশমিক ৭০ ভাগ এবং ২০১৯ সালে ছিল ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ ভাগ।
এরপর ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করলেও ২০২১ সালে পাসের হার একলাফে বেড়ে ৯৬ দশমিক ৭৮ ভাগে দাঁড়ায়। পরবর্তী বছরগুলোতে এই হার আবার কমতে শুরু করে; যার ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ ভাগ, ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক শূন্য ছয় ভাগ, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ৩৫ ভাগ, ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ ভাগ এবং সর্বশেষ চলতি বছর ২০২৬ সালে তা পতন ঘটে ইতিহাসের সর্বনিম্নে অর্থাৎ ৫৮ দশমিক ৩৩ ভাগে নেমে এসেছে।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাসের হারে এ ধরনের পতন শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ