পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর অনুপস্থিতি চীনকে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হাডসন ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, শুধু একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ায় চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে—এমনটা কেউ মনে করছে না। তবে এ পরিস্থিতিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে কাজে লাগাতে পারে বেইজিং
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এশিয়া থেকে নিজেদের শেষ বিমানবাহী রণতরী সরিয়ে নিচ্ছে দেশটি। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে। খবর এপি।
এর ফলে সাময়িকভাবে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী থাকবে না। এদিকে চীন ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মনোযোগ সরে যাওয়া মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্ব পালনের সময়সীমা মূল পরিকল্পনার চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। জাহাজটিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যার উদ্বেগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালীন সামরিক অভিযান মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক গ্রেগ পোলিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করলেও বাস্তবে তারা এর বিপরীত কাজ করছে।
তার মতে, এ অবস্থায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা প্রশাসনের নীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং চীন এতে সুবিধা পাচ্ছে।
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর অনুপস্থিতি চীনকে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হাডসন ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, শুধু একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ায় চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে—এমনটা কেউ মনে করছে না। তবে এ পরিস্থিতিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে কাজে লাগাতে পারে বেইজিং।
এদিকে অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলি গত বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়া জোরদারে মার্কিন বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ব্র্যাডলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যেকোনো স্থানে শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা রাখে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সক্ষমতা আবার অন্য অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে।
দেশবার্তা/এমআর