নতুন প্লেন কেনার পাশাপাশি প্লেন লিজ নেওয়ার চুক্তি ডিসেম্বরের মধ্যে করতে চায় সরকার। আগামী বছর থেকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন প্লেন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন । রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে যান মন্ত্রী।
ছয় নম্বর ভবনের নিচে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে সকাল সোয়া ১১টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, নতুন বিমান কেনার বিষয়ে এরই মধ্যে আরএফপি (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) দেওয়া হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহেই বসবো।
ডিসেম্বরের মধ্যে প্লেন কেনা এবং লিজ নেওয়ার চুক্তি সই করতে চাই। এর ফলে আগামী বছর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন প্লেন যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিমান বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের যাত্রীদের বড় একটি অংশ এখন বিদেশি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। বাংলাদেশ বিমানের সক্ষমতা বাড়িয়ে নিজস্ব জাতীয় ক্যারিয়ারের মাধ্যমে আরও বেশি যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ বিমানের প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এ সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৪টি ফ্লাইট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিমানের খাবারের মানসহ যাত্রীসেবার বিভিন্ন বিষয়েও পরিবর্তন আনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিমান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা দূর করতে চাই। মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সেবার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও কথা বলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অডিট ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী জানুয়ারি থেকে নিউইয়র্কে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে একটি বিমানবন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কপথ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ কয়েকটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সেখানে থাকা বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের পাশাপাশি ইউরেনিয়াম পরিবহনেও প্লেন ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব রুটে নতুন করে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে যশোরে দুটি ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা সকালে ও বিকেলে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বগুড়ায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে প্রথমে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করা হবে।
দেশবার্তা / জেএ