পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে সমিতির ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ সময় সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় মো. মুসা মহাজন (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কালিকাঠী এলাকার খোকন মহাজনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে।
আহতরা হলেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (আইটি) ফাহাদ হোসেন, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএ্যান্ডএম) তানজিম আল মাহমুদ, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন, মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ইমন খান, মিটার রিডার জিসান দেওয়ান ও লাইন টেকনিশিয়ান জাকির হোসেন। তারা পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (আইটি) ফাহাদ হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় করা এজাহারে অভিযোগ করেন, কালিকাঠী এলাকায় মিটার বাইপাস করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পেয়ে একটি দল সেখানে যায়। অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করে বিচ্ছিন্ন করার সময় কয়েকজন এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলায় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার শনাক্ত করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন। অপর আহত কর্মচারী ইমন খানও হামলার অভিযোগ করেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাপ হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দলটি সেখানে যায়। পরে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করলে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মুসা মহাজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ