সুপারহিরো চরিত্র হিসেবে স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। নতুন সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ঘিরেও দর্শকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩০ জুলাই বাংলাদেশে মুক্তির পর ছবিটি দেশেও ভালো সাড়া পেয়েছে। অনানুষ্ঠানিক বক্স অফিস ট্র্যাকিং অনুযায়ী, মুক্তির ২৪ দিনে বাংলাদেশে সিনেমাটির আয় প্রায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
তবে শুধু এই ছবির সাফল্য নয়, এবারের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসও গড়েছে নতুন ইতিহাস। রেন্ট্রাকের হিসাব বলছে, ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর ফলে ২০১৩ সালে গড়া ৪ দশমিক ৭৫৫ বিলিয়ন ডলারের আগের রেকর্ডটি ছাড়িয়ে গেছে এবারের আয়।
এই রেকর্ড গড়ার পেছনে অন্যতম বড় ভূমিকা রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’, ‘দ্য ওডিসি’ ও ‘টয় স্টোরি ৫’-এর। উত্তর আমেরিকার বাজারে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ থেকে এসেছে প্রায় ৯২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ কোটি।
রেকর্ডের হিসাব করলেও ২০১৩ ও ২০২৬ সালের পরিস্থিতি পুরোপুরি এক নয়। কারণ, ২০১৩ সালের আয় মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। পাশাপাশি এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সময়সীমা ছিল ১৩০ দিন। ২০১৩ সালে এই সময়কাল ছিল ১২৩ দিন।
রেন্ট্রাকের হিসাবে আরও একটি নজির তৈরি হয়েছে এবার। প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মে থেকে আগস্ট—টানা চার মাসেই উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস আয় ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। মে মাসে আয় হয়েছে ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন, জুনে ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন, জুলাইয়ে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন এবং আগস্টে প্রায় ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।
সাফল্যের তালিকায় পিছিয়ে নেই ‘দ্য ওডিসি’। উত্তর আমেরিকায় ছবিটির আয় প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি আয় করেছে প্রায় ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০ হাজার কোটি। এর মধ্যে শুধু আইম্যাক্স থেকেই এসেছে প্রায় ৪৮৬ মিলিয়ন ডলার।
এবারের মৌসুমে ব্যবসা করেছে শুধু বড় বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমা নয়। তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো সিনেমাও ভালো আয় করেছে। এতে মহামারির পর সিনেমা হলে দর্শক ফেরার প্রবণতা আরও দৃঢ় হয়েছে।
অবশ্য কিছু সিনেমা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ‘ফল ২: ডেডপয়েন্ট’ ও ‘অনসলট’ তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। বিপরীতে ‘কায়োটি বনাম অ্যাকমি’ দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়ে বক্স অফিসে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের এই সাফল্য তাই হলিউডের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। মহামারির পর সিনেমা ব্যবসায় যে পুনরুদ্ধারের ধারা শুরু হয়েছিল, এবারের রেকর্ড সেই প্রত্যাবর্তনকে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশবার্তা/এমআর