মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের

2026-09-15T13:01:20+06:00
2026-09-15T13:01:20+06:00
মঙ্গলবার ● ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
বিশ্ব
মহাকাশে নতুন সমীকরণ
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০১ পিএম 
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের মহাকাশ সক্ষমতার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে আয়োজিত বার্ষিক ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যের পর মার্কিন স্পেস ফোর্সও কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস কন্ট্রোল’ সক্ষমতার অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ট্রয় মেইঙ্ক বলেন, মার্কিন বাহিনীকে সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ‘অন-অরবিট’ অস্ত্র প্রয়োজন। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মহাকাশে মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।


মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন মহাকাশভিত্তিক ‘স্পেস কন্ট্রোল’ সক্ষমতা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে পারে। একই সঙ্গে এসব সক্ষমতা প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুইভাবেই ব্যবহার করা সম্ভব।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার অন্যতম লক্ষ্য হলো নিজেদের স্যাটেলাইট, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য মহাকাশ অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা এবং প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা।

তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কক্ষপথে থাকা অস্ত্রগুলোর প্রকৃতি, সংখ্যা কিংবা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘গোল্ডেন ডোম’ ঘিরে নতুন তৎপরতা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি উচ্চাভিলাষী ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের সম্ভাব্য হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখা। এর অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফলে কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার প্রকাশ্য স্বীকৃতি দেশটির সামগ্রিক মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মহাকাশ সামরিকীকরণ নতুন নয়

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের পর থেকেই মহাকাশকে সামরিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।

পরবর্তী সময়ে দুই দেশই মহাকাশে নিজেদের উপগ্রহ ও যোগাযোগব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের উপগ্রহ শনাক্ত, অকার্যকর বা ধ্বংস করার প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করে।

১৯৬৭ সালে কার্যকর হওয়া ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র, কক্ষপথে স্থাপন নিষিদ্ধ করে। তবে প্রচলিত অস্ত্র, উপগ্রহ অকার্যকর করার প্রযুক্তি কিংবা বিভিন্ন ধরনের কাউন্টারস্পেস সক্ষমতার বিষয়ে চুক্তিটিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ অনেকটাই উন্মুক্ত থেকে গেছে।

চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীন ও রাশিয়া মহাকাশে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, চীন মহাকাশ ও কাউন্টারস্পেস প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন উপগ্রহ ও যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করার সক্ষমতা তৈরি করছে।

অন্যদিকে রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বলে দাবি মার্কিন স্পেস ফোর্সের। বিশেষ করে উপগ্রহ ধ্বংস বা অকার্যকর করার প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশই কাজ করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ।

তবে চীন ও রাশিয়া মহাকাশে নিজেদের সামরিক কর্মকাণ্ডকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।

নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি এত দিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান শক্তিগুলো অনেকটাই কৌশলগত গোপনীয়তার মধ্যে রেখেছে। এবার ওয়াশিংটনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে কাউন্টারস্পেস সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে মহাকাশকে সম্ভাব্য সংঘাতের নতুন ক্ষেত্রে পরিণত করতে পারে। কারণ আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নেভিগেশন ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণের জন্য উপগ্রহনির্ভর প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে মহাকাশে কোনো বড় শক্তির উপগ্রহ অকার্যকর হয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু মহাকাশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পৃথিবীর সামরিক ও বেসামরিক যোগাযোগব্যবস্থা, নেভিগেশন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি তাই শুধু একটি সামরিক সক্ষমতার ঘোষণা নয়; বরং ভবিষ্যৎ যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে মহাকাশকে ঘিরে বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা নিয়ে চমকের সচেতনতামূলক ভিডিও
ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা !
বিজয়ের আদলে গণেশমূর্তি নিয়ে বিতর্ক
মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা !
সরকার ও ইসির সমন্বয়ে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি

সর্বাধিক পঠিত 

বৈধ বরাদ্দের পরও চা দোকানিকে হুমকি
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন সাবেক ভিপি প্রার্থী
সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সাদিক কায়েম, উত্তরে সেলিম উদ্দিন
পালিয়ে না থেকে আইনের মুখোমুখি হন : ডা. জাহিদ
বিশ্ব- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]