চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ৫০০ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সম্প্রতি এ অতিরিক্ত বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ করা হয় ৪ হাজার ৬৪৪ টন ইউরিয়া। গত বছরের একই সময়ে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ টন। সে হিসাবে এবার একই সময়ে ৭৫০ টন বেশি ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে আরও ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়ায় জেলার সার সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে।
এদিকে বরাদ্দ করা সার নিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিলারদের কার্যক্রমও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণ দেবনাথ জানান, চলতি আমন মৌসুমে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিসিআইসি ও বিএডিসির নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে সার পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
সারের বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলাজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
কৃষিবিদদের মতে, আমন ধানের বর্তমান বৃদ্ধিপর্যায়ে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত প্রয়োগ ধানের গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক। এ বিষয়ে চাষিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলার সারের মজুত পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক। কৃষকদের সুষম মাত্রায় ইউরিয়া ও ডিএপি সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ ফিরে এসেছে। সরকারি মূল্যে সার পাওয়ায় চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/আরএইচ