গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপের উপকূলে পৃথক চারটি ঘটনায় একদিনে ২৩৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও কোস্টগার্ড সংস্থা ফ্রন্টেক্স। মঙ্গলবার গাভদোস থেকে হেরাক্লিয়ন ও লাসিথির দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় এসব উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
দুপুরের দিকে গাভদোসের দক্ষিণে সমুদ্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা দেখতে পায় ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ। পরে সেখান থেকে ৬৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৩ জন পুরুষ, দুই নারী ও দুই শিশু ছিল।
হেলেনিক কোস্টগার্ডের একটি টহল নৌযানের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পালাইওখোরার তিগানি বন্দরে নেওয়া হয়। পরে চানিয়ার সেন্ট্রাল পোর্ট অথরিটির সদস্যদের পাহারায় বাসে করে তাদের চানিয়ার আগিয়া আবাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করছে চানিয়ার সেন্ট্রাল পোর্ট অথরিটি।
এর আগে দিনের শুরুতে কালই লিমেনেস, ইয়েরাপেত্রা ও আগিয়া গালিনির বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিপদগ্রস্ত একটি নৌকার বিষয়ে সতর্ক করে গ্রিসের জয়েন্ট রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার। নৌকাটি কালই লিমেনেসের প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল।
খবর পেয়ে হেলেনিক কোস্টগার্ডের একটি টহল নৌযান সেখানে গিয়ে ৬৭ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে ৬৫ জন পুরুষ ও দুই শিশু ছিল। প্রথমে তাদের কালই লিমেনেসে নেওয়া হয়। পরে ফাইস্তোস পুলিশ বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে তাদের হেরাক্লিয়ন বন্দরে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার তদন্ত করছে হেরাক্লিয়নের সেন্ট্রাল পোর্ট অথরিটি।
অন্য একটি অভিযানে কালই লিমেনেস এলাকার সারি ফোরাদা সৈকত থেকে ৫১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৭ জন পুরুষ ও চার শিশু ছিল। স্থানীয় স্পেশাল মিশনস ইউনিট ও ভিয়ান্নোস পুলিশ বিভাগের সদস্যদের পাহারায় তাদের বাসে করে হেরাক্লিয়ন বন্দরে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে একটি আউটবোর্ড মোটর জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনে ব্যবহৃত নৌকাটি ধ্বংস করা হয়েছে।
চতুর্থ ঘটনাটি ঘটে ইয়েরাপেত্রা এলাকায়। একটি ফোলানো নৌকা থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নেমে যাওয়ার পর কলোভ্রেখতিস সৈকতে তাদের উপস্থিতির খবর পায় স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে হেলেনিক কোস্টগার্ডের সদস্যরা সেখানে গিয়ে ৫০ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের ইয়েরাপেত্রার একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত করছে ইয়েরাপেত্রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পূর্ব লিবিয়া থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে প্রায় ১৪ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ক্রিট দ্বীপে পৌঁছেছেন। এসব নৌকা পাচারকারী চক্রের সরবরাহ করা বলে জানা গেছে। একই সময়ে গ্রিসজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মোট আগমন প্রায় ২৬ হাজার।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে গ্রিসে সবচেয়ে বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছেছেন। তবে ইতালিতে মোট আগমন গ্রিসের চেয়ে কম হলেও বছরের শুরু থেকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ সিসিলিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ পৌঁছেছেন।
২০২৫ সালের পুরো সময়ে গ্রিসে প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছেছিলেন।
দেশবার্তা/এমআর