| চলমান বার্তা: |

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আব্বাসের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে আব্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনিও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, পিএ ও পিএলও তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এমন কিছু কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগকেও যুক্তরাষ্ট্র আপত্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে ২০২৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর ফলে মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে অংশ নিতে পারেননি। পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি অধিবেশনে বক্তব্য দেন। এবারও ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে আব্বাসকে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জাতিসংঘে পিএলওর পর্যবেক্ষক মিশনের জন্য নোটিফাই করা কর্মীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ছাড় বহাল থাকবে।
অসলো শান্তি প্রক্রিয়ার আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সহিংসতা পরিত্যাগের শর্তে পিএলওকে ফিলিস্তিনি জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দশকের আলোচনা ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের অধিকাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও গত বছর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
এদিকে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও হামাসের সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও হামাসের একজন কমান্ডার রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের একজন কমান্ডার এবং উত্তরাঞ্চলে আরেক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় একটি করে শিশুও নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন রোগী নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন।
দেশবার্তা/এমআর
