বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটিতে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার নতুন

2026-09-17T13:45:06+06:00
2026-09-17T13:45:06+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
বিশ্ব
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৫ পিএম 
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ছবি: গেটি ইমেজেস
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটিতে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার নতুন এই নিয়ম ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ঘন ঘন ভিসা পরিবর্তনকারী ‘ভিসা হপার’ এবং ব্যাকপ্যাকারদের জন্যও বেশ কিছু নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।

নতুন বিধানের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে পারবেন না। দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে চাইলে তাদের উচ্চতর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের দিকে এগোতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, এমন কোনো ব্যবস্থা আর রাখা হবে না, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারেন।

তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিতে পারবেন। বার্কের যুক্তি, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জীবন ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট আলাদা।

‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কারা আসেন, কারা থেকে যান এবং কারা চলে যান’ শিরোনামে দেওয়া এক বক্তৃতায় এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন বার্ক। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসন কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।

‘ভিসা হপিং’ ঠেকাতেও কড়াকড়ি

স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা হপিং’ বা ঘন ঘন ভিসার ধরন পরিবর্তনের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করার পর আরেকটি কোর্সে ভর্তির আবেদন করেন, যা অনেক সময় আগের কোর্সের চেয়ে নিম্নমানের যোগ্যতার হয়ে থাকে। এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তির চেষ্টা করা হয়, যার বৈধতা বা মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে উচ্চতর শিক্ষার দিকে এগোতে চান এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকবে। যেমন স্নাতক ডিগ্রি শেষ করে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্সে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান বার্ক।

ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাতেও পরিবর্তন

১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের জন্য চালু ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত ব্যাকপ্যাকাররা এই ভিসা ব্যবহার করেন। এর আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় ১২ মাস কাজের সুযোগ থাকে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগও পাওয়া যায়। কৃষি খাতে এই ভিসাধারীরা গুরুত্বপূর্ণ শ্রমের উৎস হিসেবে কাজ করেন।

বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের ভিসার যোগ্য হতে প্রথম বছরে অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকায় তিন মাস কাজ করতে হয়। তৃতীয় বছরের জন্য কাজ করতে হয় ছয় মাস। নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যালট বা লটারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার জন সুযোগ পাবেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার।

তৃতীয় বছরের ক্ষেত্রে সুযোগ কমিয়ে ৫ হাজার করা হয়েছে। গত বছর তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্য হয়েছিলেন ৩১ হাজার মানুষ। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ ওয়ার্কিং হলিডে-মেকাররা এসব পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।

বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’ বা ইতিবাচক দিক হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।

বাড়ছে জনসংখ্যা, বাড়ছে অভিবাসন বিতর্ক

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর পাশাপাশি নিট অভিবাসন হিসেবে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জন যুক্ত হয়েছেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এরই মধ্যে অভিবাসন দেশটির বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী দল ‘ওয়ান নেশন’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের অভিবাসন নীতি প্রকাশ করেছে। এতে তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসী ভিসার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে নিম্নকক্ষে দলটি প্রথম আসন জয় করে।

দলটি নিট বৈদেশিক অভিবাসন ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বার্ক এ প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির কিছু অংশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

পারিবারিক ভিসায় আগেই অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন

জুলাইয়ে সরকার একটি নতুন নীতি চালু করে। এর আওতায় বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের করা পারিবারিক ভিসার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একইভাবে বিদেশে অবস্থানরতদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় আগে থেকেই বসবাসরত দক্ষ অভিবাসীদের স্থায়ী ভিসার আবেদনেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বাদে ২৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভায়োলেট রুমেলিওটিস বলেন, অভিবাসন নিয়ে বিতর্কটি এখন দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, তার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে এর বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে ভবিষ্যতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড
নিম্নস্তরে সিগারেটের দাম আবারও বাড়ল
২৫ কোটির সিনেমার আয় ৩১০ কোটি, মালয়ালমে নতুন রেকর্ড
রাজশাহীতে ভূমি মন্ত্রী মিনুর উদ্যোগে জরুরি ত্রাণ বিতরণ
মহাসড়ক দখল করে জগদল হাট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সর্বাধিক পঠিত 

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
এডিবির ‘উইমেন ইন বিজনেস চ্যাম্পিয়ন’ অ্যাওয়ার্ড জিতল ব্র্যাক ব্যাংক
বিপ্লব উদ্যানে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম জাতীয় পতাকা করবে চসিক
মক্কায় ড্রোন হামলার কঠোর নিন্দা জানালো বাংলাদেশ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নওগাঁয় যুবদলের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
বিশ্ব- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]