ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধে ইউরোপ ও এশিয়ার অধিকাংশ মিত্র দেশ ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তাদের অনেকেরই অভিযোগ, মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতে জড়িয়েছে এবং এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব তাদের ওপরও পড়ছে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ানোর পথে। এ অবস্থায় আগামী মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের মুখোমুখি হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই জাতিসংঘে ফিরছেন তিনি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর আগে জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছিলেন। তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তার সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের তফাত দেখা গেছে।
সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান এখনো প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে। দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে পরাজিত করে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূল বরাবর এগিয়ে গিয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির মুখের কয়েকটি দ্বীপ দখল করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধে ইউরোপ ও এশিয়ার অধিকাংশ মিত্র দেশ ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তাদের অনেকেরই অভিযোগ, মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যুক্তরাষ্ট্র এ সংঘাতে জড়িয়েছে এবং এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব তাদের ওপরও পড়ছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর্মসূচিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। ইরানের কাছে অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক হুমকি রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল—এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর সৌদি আরবের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
দেশবার্তা/এমআর