শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নরসিংদীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার ছয় উপজেলায় এ বছর ৩৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ। পূজাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও কাদামাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে মাটির প্রলেপ, সূক্ষ্ম কারুকাজ ও রং করার কাজ।
প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে কোথাও চলছে মাটির শেষ প্রলেপ ও কারুকাজ, আবার কোথাও প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। এরপর অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে প্রতিমাগুলো নেওয়া হবে পূজামণ্ডপে।
সরেজমিনে নরসিংদী শহর ও মাধবদীর কয়েকটি পূজামণ্ডপ এবং প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে তাতে কাদামাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। মাটি শুকানোর পর চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। কোথাও দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব তৈরির কাজ চলছে। আবার অনেক প্রতিমায় রং করার কাজ শুরু হয়েছে। শিল্পীরা প্রতিমার চোখ, মুখমণ্ডল, পোশাক ও অলংকারের নকশা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
প্রতিমা শিল্পীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা ও দাম কিছুটা ভালো। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণ বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি ও রংয়ের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কারিগর ও শ্রমিকদের মজুরি। ফলে প্রতিমার দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না তাঁদের।
নরসিংদী শহরের সেবা সংঘ এলাকার প্রতিমা শিল্পী সবুজ দাস বলেন, “অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রতিমার চাহিদা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কারিগরদের মজুরি বেশি হওয়ায় প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। এ কারণে প্রতিমার দামও কিছুটা বেশি পড়ছে।”
তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকানোর পর রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করে প্রতিমা মণ্ডপে পাঠানো হয়। দুর্গাপূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন কাজের চাপ অনেক বেড়েছে।
শিল্পীরা জানান, একটি প্রতিমা তৈরিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগে। প্রতিমার আকার, নকশা ও কারুকাজের ওপর নির্ভর করে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বড় ও বিশেষ নকশার প্রতিমা তৈরিতে সময় ও শ্রম বেশি লাগে। ফলে এসব প্রতিমার দামও তুলনামূলক বেশি।
এদিকে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদ। নরসিংদী জেলায় এবার ৩৬১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মণ্ডপের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ, বিদ্যুৎ সংযোগ, অগ্নিনিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূজা চলাকালে দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল ও উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাখন দাস বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করার বিষয়ে আশাবাদী। নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ