গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ১৭৬ বছরের পুরোনো কালীরবাজার কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটি নিয়ে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি মিলন কুমার বর্মণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পদ আঁকড়ে থাকা, মন্দিরের অর্থ ও প্রণামীর টাকা আত্মসাৎ এবং সম্প্রদায়ের মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফুলছড়ির সনাতন হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেমচন্দ্র বর্মণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূষণ কুমার দাস, জগদীশ বর্মণ, নারায়ণী দেবী, ধীরেন্দ্র নাথ বর্মণ, গোপাল বর্মণ, খিলন রবিদাস প্রমুখ।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে ফুলছড়ি পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বর্মণকে এক বছরের জন্য সভাপতি করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়। এরপর সনাতন হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও দলীয় প্রভাবে তিনি আর কমিটি গঠন করতে দেননি। একক সিদ্ধান্তে তিনি মন্দিরের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের নামে আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ও মাহমুদ হাসান রিপনের দেওয়া প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর দুর্গাপূজার প্রণামী ও মন্দিরের দোকান ভাড়ার টাকাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সব সনাতনীর উপস্থিতিতে নতুন মন্দির কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে ১৬ সেপ্টেম্বর মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একই দিনে একই স্থানে মিলন কুমার বর্মণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সভা আহ্বান করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় সাধারণ সনাতনীরা পরিচিতি অনুষ্ঠান বাতিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আধিপত্য বিস্তার, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হয়রানি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে মিলন কুমার বর্মণকে গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে একই দাবিতে ফুলছড়ির সনাতন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
প্রতিনিধি/আরএইচ