জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররাম হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, নগরের রৌফাবাদ সংলগ্ন পশ্চিম শহীদনগর এলাকার তৈয়্যবিয়া হাউজিং সোসাইটিতে ২০০২ সালে ৩ শতক জমি কিনে একটি ১৭ ফ্ল্যাটের পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন তাজুল। দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ করতে তিনি আয়ের কোনো দৃশ্যমান উৎস না থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর নামে ওই জমি কিনে বাড়িটি নির্মাণ করেন।
বাড়িটি নির্মাণের অর্ধেক ব্যয় ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হলেও গণপূর্ত বিভাগের উপপ্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত দুদকের নিরপেক্ষ তদন্ত দল তার ব্যয় নির্ধারণ করে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এছাড়া তদন্তকালে তাজুলের স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রক্ষিত নগদ টাকাসহ আরও ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পায় দুদক। সব মিলিয়ে খাইরুন্নেছার নামে মোট ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ মার্চ তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদকের সাবেক সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে উঠে আসে, তাজুলের স্ত্রীর কোনো বৈধ আয়ের উৎস ছিল না; মূলত স্বামীর অবৈধ অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে তাকে ভুয়া ‘পোলট্রি খামারি’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
প্রতিনিধি/একে