মাছ লুটের পর পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ, অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার

নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাদেশ

নওগাঁর রাণীনগরে পুকুরের মাছ লুটের পর এবার পুরো পুকুরটি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। মাছ লুটের ঘটনায়

2026-10-05T19:59:42+06:00
2026-10-05T19:59:42+06:00
মঙ্গলবার ● ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
মাছ লুটের পর পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ, অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম 
⏲
সংগৃহীত ছবি
নওগাঁর রাণীনগরে পুকুরের মাছ লুটের পর এবার পুরো পুকুরটি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। মাছ লুটের ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য অসিত দেবনাথ। এতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দখলের চেষ্টার কারণ ও সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

গত আগস্ট মাসে উপজেলার করজগ্রাম-দোগাছি এলাকায় অসিত দেবনাথদের প্রায় ১০ বিঘা সম্পত্তির একটি পুকুর দখলের চেষ্টা ও মাছ লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট অসিত দেবনাথ বাদী হয়ে সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি করে রাণীনগর থানায় মামলা করেন।

মামলার পর করজগ্রাম-দোগাছি-উদনাপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে সবুজ (৩৫), মৃত সাঈদ আলীর ছেলে আব্দুল সাত্তার (৪৬), মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে বুলু (৪৫) ও জহরুল ইসলাম (৪৩)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী অসিত দেবনাথ করজগ্রাম হিন্দুপাড়ার মৃত অরুণ চন্দ্র দেবনাথের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করজগ্রাম-দোগাছি এলাকায় অসিত দেবনাথদের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত প্রায় ১০ বিঘা জমির একটি পুকুর রয়েছে। ওই জমির ১০ শতক নিজেদের প্রাপ্য বলে দাবি করেন একই এলাকার জব্বারের দুই ছেলে সবুজ ও শরিফুল এবং জব্বারের আরও তিন ভাই বুলু, জহুরুল ও ফুলবর। ছাত্তার নামে আরেক ব্যক্তি তাঁদের উসকানি দিয়ে আরও অশান্তি সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ পরিবারের। এতে দিনের পর দিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

অসিত দেবনাথ বলেন, “আমাদের ওখানে পৈতৃক সম্পত্তি আছে, যা ১৯৮২ সাল থেকে ভোগদখলে রয়েছি। পরে সেখানে আরও কিছু সম্পত্তি কেনা হয়। এর মধ্যে জব্বার গংদের দুই বোন মর্জিনা ও মনোয়ারার কাছ থেকে ২০০১ সালে ২৪ শতক জমি কবলা দলিল করে নিই। তাও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে লিখিত আপস-মীমাংসার পরের দিন। এরপর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে পুকুরে মাছ চাষ করে খাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে গত আগস্ট মাসে তারা আমাদের পুকুর থেকে জোর করে দেড় লাখ টাকার মাছ মেরে নিয়ে যায়। এতে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। বাধ্য হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর জামিনে এসে এখন পুরো পুকুর দখলের চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ওই সম্পত্তির মধ্যে ১০ শতক জায়গা প্রতিপক্ষদের আছে বলে দাবি করে জব্বার গংরা। অথচ তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারে না। বসতে চাইলে বসে না। শুধু শুধু আমাদের হুমকির ওপর রেখেছে। আজ কয়েক মাস থেকে আমরা সেখানে যেতে পারছি না। যেতে চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুকুরে মাছের জন্য খাবার দিতে যেতে পারছি না। আমি সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় অতুল দেবনাথ, অখিল চন্দ্র দেবনাথ ও রবিন দেবনাথসহ কয়েকজন বলেন, তাঁদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। তাঁরা জানেন, সেখানে অসিতের বাবার পৈতৃক জমিসহ একটি পুকুর রয়েছে। এর পাশেই আরেকটি পুকুরসহ কিছু জমি তাঁর বাবা কিনেছিলেন। পরে দুই পুকুরের পাড় তুলে দিয়ে একটি পুকুর করা হয়। প্রায় ২৫ বছর ধরে পুকুরটি অসিতরা ভোগদখল করে আসছেন। তবে হঠাৎ করে পুকুরের জমি নিয়ে বিরোধের কথা শুনছেন বলে জানান তাঁরা।

জব্বার ও তাঁর দুই ছেলে সবুজ ও শরিফুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শরিফুলের মুঠোফোনে পরপর তিন দিন ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ ওঠা আব্দুল সাত্তার বলেন, “মারামারির দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। এবং অসিতের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও নেই। আমার বাড়ি পুকুরপাড়ে। কিন্তু আমি পুকুর বা জমির বিরোধের সঙ্গে জড়িত নই। জব্বার গংরা আমার রক্তের কেউ নয়। তারপরও আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।” মামলায় জড়ানোর কারণেই তিনি তাঁদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন সাত্তার।

চেয়ারম্যানের মাধ্যমে লিখিতভাবে পুকুরের ওই জমি নিয়ে তাঁর বোনদের সঙ্গে মীমাংসা হয়েছিল জানিয়ে সাত্তার বলেন, “কাগজপত্রের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই সম্পত্তির মালিক শুধু বোনেরা হতো, যদি বোনেরা দাগে দাগে বিক্রি না করত। যেহেতু বোনেরা দাগে বিক্রি করছে, সেই কারণে ভাইয়েরা পুকুরের ওই জায়গায় দখলে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “চার বিঘা জলার পুকুরের মধ্যে জব্বার গংরা শুধু ১০ শতকের অংশীদার। আর সবগুলো অসিতের অংশ। পুরো চার বিঘার পুকুর তারা দখল নিতে পারে না। সেই জন্য অসিতের অংশ আলাদা করে মাছ ছাড়া হয়েছিল। এরপর সেই পুকুরের মাছ তোলার পরে অসিত বাদী হয়ে মামলা করে।”

হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে সাত্তার বলেন, “বরং অসিতই আমাকে হুমকি দিয়েছে। অথচ আমরা এখন পর্যন্ত কোনো খারাপ ব্যবহারও করিনি, কোনো কিছু কইনি। দেখা যাক অসিত কত দূর পর্যন্ত কী করে। এখন যদি তারা বসে সমাধান নিতে চায়, তাহলে প্রথমে অসিতকে মামলা তুলতে হবে। তারপর বসার একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”

কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, প্রায় দুই যুগ আগে তাঁদের ভাই-বোনদের মধ্যে লিখিত ভাগ-বাটোয়ারার আপস করে দেওয়া হয়। এরপর দুই বোনের কাছ থেকে অসিত জমি কিনে নেন। প্রথম কবলামূলে অসিত ওই জমির মালিক। তারপরও উভয়পক্ষের বসে একটি সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। কারণ জবরদখল ও মারপিট কাম্য নয়।

রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, প্রত্যেকের আইনগত বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। অসিত দেবনাথ হিন্দু হওয়ায় বিচার পাবেন না, এমন হতে পারে না। তাঁকে আইনগতভাবে সহযোগিতা করা হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁদের আলাদা সহানুভূতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অসিত দেবনাথের পরিবার ও প্রতিপক্ষ—উভয় পক্ষকেই আইনগতভাবে সহযোগিতা করে সমাধান করা হবে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ঘটনা জানার পর আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। অসিতের মামলার পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে উভয়পক্ষকে বসে শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে। এরপরও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/আরএইচ


সর্বশেষ সংবাদ 

প্রীতম-শেহতাজের বিচ্ছেদের চর্চায় কেন নাম এলো সাফা কবিরের?
দুর্গাপূজায় ২২ অক্টোবর ছুটি অনুমোদন, মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি
পিরোজপুরে ১৫০ মাকে সংবর্ধনা দিল পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মাছ লুটের পর পুকুর দখলের চেষ্টার অভিযোগ, অসহায় সংখ্যালঘু পরিবার
ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সর্বাধিক পঠিত 

টেকনাফে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১
অচল এক ও দুই টাকার কয়েন, নিচ্ছে না ব্যাংকও
মোরেলগঞ্জে বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু
পুশইন ঠেকানোর কৌশলে প্রশংসায় ভাসছে বিজিবি
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]