কপ৩১ প্রত্যাশা থেকে প্রাপ্তির পথে বাংলাদেশ

প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদ

মতামত

উপকূলে লবণাক্ততার কারণে ফসল হারানো কৃষকের কাছে জলবায়ু সম্মেলনের সাফল্যের অর্থ যেমন পরের মৌসুমে আবার চাষ করতে পারা।

2026-10-07T18:46:46+06:00
2026-10-07T18:46:46+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
মতামত
কপ৩১ প্রত্যাশা থেকে প্রাপ্তির পথে বাংলাদেশ
প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদ
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম 
⏲
প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদ
উপকূলে লবণাক্ততার কারণে ফসল হারানো কৃষকের কাছে জলবায়ু সম্মেলনের সাফল্যের অর্থ যেমন পরের মৌসুমে আবার চাষ করতে পারা। তেমনি নদীভাঙনে ঘর হারানো পরিবারের প্রত্যাশা নিরাপদ আশ্রয় ও জীবিকা। আন্তর্জাতিক আলোচনার অর্জন এসব প্রয়োজন কতটা পূরণ করে, সেখানেই তার কার্যকারিতার পরীক্ষা।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে মানুষের সুরক্ষা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় কাজে লাগানোর সুযোগ।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত

অভিযোজনে পর্যাপ্ত ও সহজলভ্য অনুদান
বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অভিযোজনের জন্য পর্যাপ্ত অনুদান, অর্থপ্রাপ্তির সহজ শর্ত এবং অর্থ ছাড়ের নির্ভরযোগ্য সময়সূচি। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০২৩ থেকে ২০৫০ মেয়াদে ১১৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় ২৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চাহিদা পূরণে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

উপকূলে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, হাওরে দুর্যোগের আগাম সতর্কতা এবং শহরে তাপপ্রবাহ মোকাবিলার জন্য প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন চাইতে হবে। প্রতিটি প্রস্তাবে স্থানীয় ঝুঁকি, উপকারভোগীর সংখ্যা ও প্রত্যাশিত ফলাফল স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। যেসব জনসেবামূলক উদ্যোগ থেকে ঋণ পরিশোধের উপযোগী আয় আসে না, সেগুলোর জন্য অনুদানের দাবি বিশেষ গুরুত্ব পেতে হবে।

অর্থায়নের মানও আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। প্রতিশ্রুত অর্থের কতটা অনুদান, কতটা ঋণ এবং ঋণের সুদ ও পরিশোধের শর্ত কী, তা আলাদাভাবে জানতে হবে। একই অর্থ একাধিক উদ্যোগের অর্জন হিসেবে দেখানো হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। এতে ঘোষিত সহায়তা ও প্রাপ্তির পার্থক্য বোঝা যাবে।

ক্ষয়ক্ষতির সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছানো
অভিযোজনের মাধ্যমে সব ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব নয়। ঘূর্ণিঝড়ে ধ্বংস হওয়া বসতভিটা, নদীগর্ভে বিলীন কৃষিজমি কিংবা বাস্তুচ্যুত পরিবারের জীবিকা পুনরুদ্ধারে পৃথক সহায়তা প্রয়োজন। ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় অর্থ পাওয়ার দাবি বাংলাদেশের জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত।

সেই অর্থ কাজে লাগাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নির্ভরযোগ্য তথ্য, ক্ষতির যথাযথ মূল্যায়ন এবং সহায়তা বিতরণের স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পুনর্বাসনের পরিকল্পনায় বাসস্থানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ রাখতে হবে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি
বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৫ মেয়াদে নির্ধারিত নির্গমন হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনুমানিক ১১ হাজার ৬১৮ কোটি ডলার প্রয়োজন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তানির্ভর অংশ ৯ হাজার ২৩ কোটি ডলার। কপ৩১ এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকীকরণ এবং ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ প্রস্তাব তৈরি করা প্রয়োজন। যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাই জলবায়ু আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রস্তুতি এগোচ্ছে, তবে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ
কপ৩১ এর প্রস্তুতি সমন্বয়ে বাংলাদেশ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন করেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট কারিগরি সমন্বয় কমিটি ও তিনটি উপকমিটি গঠনের পর ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় অবস্থানপত্র, প্যাভিলিয়ন, আনুষঙ্গিক আয়োজন এবং প্রতিনিধিদলের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

স্বল্পোন্নত ও সমমনা দেশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগও রয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যৌথ অবস্থান গ্রহণের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে। আঞ্চলিক আগাম সতর্কতা ও সহযোগিতার আলোচনায় এই সমন্বয় কাজে আসতে পারে।

তবে সভা ও প্যাভিলিয়নের আয়োজন দিয়ে অর্থায়ন গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করা যায় না। বাংলাদেশের এনডিসিতেও প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং বাস্তবায়নের প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রয়োজন উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নকে প্রকল্প ও অংশীদারিত্বের আলোচনার কার্যকর স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, প্রয়োজনীয় অর্থ, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার তথ্য থাকা উচিত। স্থানীয় অভিযোজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সময় সংশ্লিষ্ট মানুষের মতামতও যুক্ত করতে হবে। এতে বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রয়োজন বুঝে পরবর্তী আলোচনায় যেতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে সম্ভাব্য অর্জন
কপ৩১ এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও অর্থায়নের চাহিদা বিশ্বনেতাদের সামনে সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে অর্জন নির্ভর করবে আলোচনার প্রস্তুতি ও পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোজনে অনুদান বাড়ানো, ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে সহজ প্রবেশাধিকার এবং অর্থ ছাড়ের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে উচ্চপর্যায়ের সমর্থন চাইতে পারেন। নিরাপদ পানি, দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের সুপ্রস্তুত প্রকল্প তুলে ধরলে বাংলাদেশের দাবির সঙ্গে অর্থায়নের বাস্তব ক্ষেত্রও স্পষ্ট হবে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গ্রিড আধুনিকীকরণ ও শিল্পের জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাইতে পারেন। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার ও বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরলে সম্ভাব্য অংশীদারদের আস্থা বাড়তে পারে।

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অভিন্ন দাবিতে সমর্থন গড়ে তোলাও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হতে পারে। দেশে ফিরে বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব ও সময়সীমা দেওয়া প্রয়োজন। সম্ভাব্য লাভ এখনই অর্থের অঙ্কে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়; অর্থায়নের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কার্যকর প্রকল্প হবে অর্জন মূল্যায়নের ভিত্তি।

সম্মেলনের আগে জরুরি করণীয়
প্রথমত, বাছাই করা অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে হবে। প্রতিটি প্রস্তাবে ব্যয়, সময়সীমা, উপকারভোগী, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং ফলাফল মূল্যায়নের পদ্ধতি থাকতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে গ্রিড সংযোগ, বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও বিনিয়োগের ঝুঁকিও স্পষ্ট করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের লক্ষ্য আগে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কোন অংশীদারের কাছে অনুদান, কার কাছে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কার কাছে বিনিয়োগ চাওয়া হবে, তা প্রস্তুতিপর্বেই ঠিক করতে হবে। প্রতিটি বৈঠক শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা জরুরি।

তৃতীয়ত, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশলী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারকে প্রকল্প প্রস্তুতি এবং তথ্য যাচাইয়ে যুক্ত করা প্রয়োজন। কার্বন বাজারে চুক্তির আগে দেশের নিজস্ব নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ ব্যয়ের ওপর তার প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে।

অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি সামাজিক সুফলও মূল্যায়ন করতে হবে। একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নারীর কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের ব্যবস্থা রাখা যায়। অভিযোজন প্রকল্পে দরিদ্র পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকল্পের সাফল্য যাচাইয়ে শুধু নির্মাণের অগ্রগতি দেখলে চলবে না। সেবা সচল আছে কি না, রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ রয়েছে কি না এবং মানুষ বাস্তবে উপকৃত হচ্ছে কি না, সেসব তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে।

সম্মেলন শেষে অগ্রগতির হিসাব প্রকাশ করা উচিত। তিন মাসের মধ্যে কতটি আলোচনা প্রকল্প প্রস্তাবে রূপ নিয়েছে এবং কতটির অর্থায়ন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, তা জানালে অর্জন ও সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

সাফল্যের মাপকাঠি ও মানুষের জীবনে পরিবর্তন
কপ৩১ এর সাফল্য নির্ধারিত হবে দেশে তার ফলাফল দিয়ে। কত পরিবার নিরাপদ পানি পেল, কত কৃষক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা পেল এবং কত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ করল, সেই হিসাবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সুপ্রস্তুত প্রকল্প, দক্ষ প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়ন যুক্ত করতে পারলেই আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির সুফল মানুষের জীবনে পৌঁছাবে।

লেখক: জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ
কান্ট্রি লিড - বাংলাদেশ, জিওক্যাল ইনকরপোরেটেড (যুক্তরাষ্ট্র)


সর্বশেষ সংবাদ 

রোনালদোর বক্তব্য পড়ার পর যা বললেন পর্তুগাল কোচ
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার
সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের তাগিদ
৫ শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭ শতাংশ রোহিঙ্গা
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার ৬৯ শতাংশ অর্জিত

সর্বাধিক পঠিত 

শাহ আমানত বিমানবন্দর এলাকায় চলছে মাটিলুটের মহোৎসব
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে এলজিইডির পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সাটুরিয়ায় গ্যাসের গোপন মজুত, ১২৫ সিলিন্ডার জব্দ: জরিমানা ৯০ হাজার
জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
ঢাকায় যুবককে হত্যা, ডিমলায় বাড়ির পাশে মাটিচাপা
মতামত- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]
Advertisement