এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগের কাছে ন্যূনতম ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার জরুরি ভর্তুকি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো ওই আনুষ্ঠানিক চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে (১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) আমদানি করা এলএনজি কার্গো বা চালানগুলোর আমদানি মূল্য দ্রুত পরিশোধ করা না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সুদ বা জরিমানা এবং সরবরাহকারীদের সাথে আস্থার সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশ। এর ফলে পরবর্তীতে দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের জ্বালানি খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে সরকার মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে, যার পেছনে মোট ব্যয় হয়েছে ৯৪ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। অথচ দেশের বাজারে সেই গ্যাস বিক্রি করে মোট আয় হয়েছে মাত্র ৩২ হাজার ৮ কোটি টাকা। ফলে কেবল এক মাসেই আমদানি খরচ ও বিক্রয় আয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি সমন্বয় করতে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের পাওনা চুকিয়ে দিতে সরকারের ভর্তুকির ওপর ব্যাপকহারে নির্ভর করতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে।
এর আগে ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি করা কার্গোগুলো বাবদ ৩১ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল পেট্রোবাংলা। ওই সময় অর্থ বিভাগ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করায় তা দিয়ে প্রথম অর্ধেকের বিল পরিশোধ করা সম্ভব হলেও ১ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়ে যায়। এর সাথে চলতি মাসের শেষ অর্ধেকের জন্য আরও ৩১ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন মেটানো এবং আগের ১ হাজার কোটি টাকার বকেয়া মিলিয়ে মোট তাৎক্ষণিক তহবিলের চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২শ কোটি টাকায়।
স্পট মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে কেনা এলএনজির বিল সাধারণত জাহাজ ডেলিভারির ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। সেই হিসেবে ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের চালানের পেমেন্ট উইন্ডো বা সময়সীমা ১ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা না হলে আন্তর্জাতিক বাজার কাঠামোর নিয়মানুযায়ী এসওএফআর (SOFR)-এর সাথে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে ত্রৈমাসিক চক্রবৃদ্ধি সুদের জরিমানা গুনতে হতে পারে বাংলাদেশকে, যা সামগ্রিক আমদানিব্যয়কে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। এছাড়া জ্বালানি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, নিয়মিত পেমেন্টে বিলম্ব ঘটলে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছে বিশ্বস্ত ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এমনকি যাদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টার এলএনজি সেল অ্যান্ড পার্চেজ এগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) রয়েছে, সেইসব কোম্পানিগুলোও ভবিষ্যতে স্পট মার্কেটের দরপত্রগুলোতে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে অথবা পেমেন্ট ঝুঁকির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত চড়া দাম দাবি করতে পারে। জাতীয় শক্তি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে অর্থ বিভাগ থেকে দ্রুত এই জরুরি তহবিল ছাড় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশা প্রকাশ করেছে।
দেশবার্তা/জেএ