সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সূচনা পর্ব মহালয়া আজ শনিবার সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) শরতের শান্ত ভোরে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে একযোগে চণ্ডীপাঠ, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ এবং দেবী দুর্গার বন্দনায় ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সনাতন শাস্ত্রানুসারে, দুর্গাপূজা শুরুর ঠিক সাত দিন আগে মহালয়া পালিত হয়। এই বিশেষ দিনে ধরাধামে দেবী দুর্গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবাহন জানান ভক্তরা। বিশ্বাস করা হয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে মর্ত্যলোক দেবী ও তাঁর সন্তানদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত হয়।
মহালয়ার দিনে ভক্তরা পূজা-অর্চনার মাধ্যমে তাঁদের প্রাতঃস্মরণীয় ও প্রয়াত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এ উপলক্ষে মন্দির ও স্নানঘাটগুলোতে তর্পণ তর্পণের পাশাপাশি ব্রাহ্মণদের বস্ত্র, ফলমূল ও মিষ্টান্ন দান করার রীতি পালন করা হয়।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো মূল দুর্গোৎসবের প্রহর গণনা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব এবং দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে।
শাস্ত্র মতে, দুর্গাপূজার তিনটি মহাগুরুত্বপূর্ণ পর্ব হলো মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা। মহালয়ার দিনে সুর ও অসুরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেবী দুর্গা অসুররাজ মহিষাসুরকে বধের জন্য দেবতাদের কাছ থেকে ঐশ্বরিক ক্ষমতা ও নির্দেশ লাভ করেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের সম্মিলিত তেজ ও শক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেবী ‘মহাশক্তি’ রূপে আবির্ভূত হন। পরবর্তীতে ১০টি বিশেষ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহের পিঠে চেপে ৯ দিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মহিষাসুরকে বধ করেন তিনি।
দেশবার্তা/একে