ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) পূর্বনির্ধারিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লি। নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় ও কঠোর ধরপাকড়ের কারণে থমকে গেছে এই আন্দোলন।
শনিবার দিল্লিতে পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল সিজেপি। আনুমানিক ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঠেকাইতে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ হাজার সিআরপিএফ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইতোমধ্যে কেবল দিল্লিতেই দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
মুম্বাই থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং আইন বিষয়ক প্রধান রত্ন সিংকে বিমানের ভেতর থেকেই আটক করে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এক ভিডিও এবং ইনস্টাগ্রাম লাইভে অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের আটক করতে দিল্লি পুলিশ বিমানের ভেতর প্রবেশ করছে। তারা সবাই বিমানের ভেতরে ঢুকছে। আমরা মাত্রই অবতরণ করেছি। দিল্লি পুলিশের সব কর্মকর্তা করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা বিমানের ভেতর থেকে আমাদের আটক করার চেষ্টা করছেন। পুরো দিল্লি পুলিশ বিমানে উঠছে। এটাই নরেন্দ্র মোদির ভয়।’
ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমনটি করেননি। আমরা কেবল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে চেয়েছিলাম। আর তারা আমাদের এমনভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে যেন আমরা কোনো অপরাধী।
ভিডিওতে রাঙ্কা ও দাসকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে সিজেপির শীর্ষ নেতারা পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগে গুরুগ্রাম পুলিশ সেক্টর ৫৬-এর বাসা থেকে সিজেপি সমর্থক ও প্রবাসী ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করে।
সিজেপির শীর্ষ নেতাদের এভাবে আটক করাকে ‘বেআইনি’ দাবি করে সংগঠনটি বলেছে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই আয়োজকদের আটক করা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রতিহত করার সরকারি অপচেষ্টা।
কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি নজরদারি, পুলিশ কর্মীদের ইউনিফর্মে বডি ক্যামেরা যুক্ত করার পাশাপাশি একটি অংশকে ‘পিংক ফোর্স’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার সীমান্তবর্তী সড়ক এবং নয়াদিল্লির অভিমুখী বিভিন্ন রুটে ট্রাফিক নিষেধাজ্ঞা, শত শত ট্রেন বাতিল এবং মেট্রোসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কনট প্লেস, সদর বাজার, করোলবাগ ও চাঁদনি চকের বাণিজ্যিক সমিতিগুলো দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করেছে। ৯ ও ১০ অক্টোবর পুরো দিল্লিতে মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরোধিতাকারী সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর সুরেই রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার চলে যাবেন। এই সরকার চলে যাবে। তারপর গণতন্ত্রের মেরামত শুরু হবে।’
তবে সিজেপির এই আন্দোলন থেকে কংগ্রেস দূরে রয়েছে। রাহুল গান্ধী ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মিত্র ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেন্নাই অবস্থান করছেন।
দেশবার্তা/একে