গাজীপুরের শ্রীপুরে দিন দিন বেড়েই চলেছে চুরির ঘটনা। রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরচক্রের সদস্যরা। মোবাইল ফোন অপারেটরদের টাওয়ারের সংযোগ তার থেকে শুরু করে বসতবাড়ির পানির মোটরের বৈদ্যুতিক তারও কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের টাওয়ারের সংযোগ তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই রাতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহমেদের বাসার পানির মোটরের বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতের কোনো এক সময় চোরচক্রের সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত সোমবার রাতেও উপজেলার মক্কা-মদিনা স্পিনিং মিল এলাকায় বেলাল উদ্দিনের বাসা থেকে পানির মোটরের বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতের কোনো এক সময় বাড়িতে থাকা মোটরের তার কেটে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ির পানির মোটরের তার চুরির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ বুঝে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। বৈদ্যুতিক তার, পানির মোটরের তারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এতে বাসাবাড়ি ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে মোবাইল ফোন অপারেটরদের টাওয়ারের সংযোগ তার চুরির কারণে টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পানির মোটরের তার চুরি হওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন বাড়ির বাসিন্দারা।
একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের নজরদারি ও রাতের টহল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, "শুক্রবার রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে। আপনার মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই পুলিশের টহল জোরদার করা হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দা খাইরুল আলম বলেন , চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি রাতের বেলায় পুলিশের টহল বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং চোরাই তার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ক্রমাগত চুরির ঘটনায় শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দেশবার্তা/জেএ