গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য ও পৌরাণিক কাহিনির অন্যতম অনুষঙ্গ বেহুলা-লক্ষিন্দরের বাসরঘর অনুষ্ঠান। সেই ঐতিহ্য ও লোককাহিনি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ি ইউনিয়নের নাপিতপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ আবহে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বেহুলা-লক্ষিন্দরের অমর প্রেম, বিরহ, ধৈর্য ও সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।
বাংলার লোকসাহিত্য ও মনসামঙ্গল কাব্যে বেহুলা-লক্ষিন্দরের কাহিনি বিশেষভাবে পরিচিত। কিংবদন্তি অনুসারে, স্বামী লক্ষিন্দরকে ফিরে পাওয়ার আশায় বেহুলার দীর্ঘ সংগ্রাম, ভালোবাসা ও অদম্য বিশ্বাসের গল্প যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এ কাহিনি শুধু প্রেমের নয়, বরং ধৈর্য, সাহস, ত্যাগ ও ভালোবাসারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গ্রামবাংলার এমন লোকজ আয়োজনের মাধ্যমে প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক নতুন করে মানুষের সামনে উঠে আসে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাংলার লোককথা, পৌরাণিক ইতিহাস ও হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিচিত করাতে এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলার অনেক প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।
হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বেহুলা-লক্ষিন্দরের বাসরঘরের মতো অনুষ্ঠান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী।
প্রতিনিধি/আরএইচ