চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে ডিজেল ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর, কৃষিমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকবে না। জ্বালানি সংকটের ফলে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এতে আরও বলা হয়, দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত, যা ধান থেকে উৎপন্ন। বর্তমানে দেশে বোরো মৌসুম চলমান, আর এই সময়ে ধান চাষে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি সরবরাহ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ডিজেল ও বিদ্যুতের কোনো বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চলতি মৌসুমে ধানের উৎপাদন ঠিক রাখা সম্ভব হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সেচ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজেলের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও দাবি জানানো হয়- চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও ভুট্টাসহ কৃষি কাজে নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত করা, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিলে বিলে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু করা, খেতমজুরদের সারা বছর কাজের ব্যবস্থা করা এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। পাশাপাশি গ্রামীণ রেশনিং ব্যবস্থা চালু, পান রপ্তানিতে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার এবং পানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।
এদিন জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান, জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমানসহ জেলা কমিটির নেতারা-অমিত বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান পিল্টু, সুমন কর প্রমুখ।
প্রতিনিধি/আরএইচ